কলকাতা প্রথম পাতা

পুজো কমিটিকে না জানিয়েই আচমকা মমতার পাড়ার পুজোর সভাপতি সায়ন্তন! বিশেষ বৈঠকে সংঘশ্রীর কর্তারা

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলার সবচেয়ে বড় পুজো দুর্গাপুজো।এবার লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ঝুলিতে ১৯টি আসন যাওয়ার পর থেকেই বাংলায় নিজেদের সংগঠন আরো মজবুত করতে মরিয়া দিলীপ ঘোষ-রাহুল সিনহরা।এমনকি দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে রাজ্যের বিজেপি নেতাদের ময়দানে নামতে বলেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেইমত গোপনে গোপনে শহরের বেশ কয়েকটি নামি পুজো কমিটিতে নিজেদের নাম তুলতে যোগাযোগ শুরু করেছেন বঙ্গের বিজেপি নেতা-নেত্রীরা। দুর্গাপুজোর মরশুম শুরু হতে আর বেশিদিন নেই। কিন্তু তার আগে শহরের এক পুজো কমিটির ভোলবদল ইতিমধ্যেই শিরোনামে। মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ার পুজোয় কমিটির সভাপতি বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু হতেই শোরগোল পড়েছে শহরের পুজোমহলে।অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, এবার মমতার পাড়ার পুজোর ফিতে কাটতে নাকি দিল্লি থেকে উড়ে আসবেন বিজেপির কেন্দ্রীয় স্তরের কোন হাইপ্রোফাইল মন্ত্রী। তবে সেসব এখন সম্ভবনার জায়গায়। তবে গতবছরও কালীঘাট সংঘশ্রী ক্লাবের পুজোর উদ্বোধন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অথচ আচমকা পুজো কমিটির একাংশকে অন্ধকারে রেখে নাকি এবছর সভাপতি করা হয়েছে বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসুকে। এবং এই বিষয়ে রীতিমতো সংঘাতের বাতাবরণ পুজো কমিটির মধ্যেই। বর্তমানে যিনি ক্লাবের সভাপতি, সেই শিবশংকর চট্টোপাধ্যায় নাকি জানেনই না যে সায়ন্তন বসুকে পুজোকমিটির সভাপতি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটাতে তিনি কমিটির কাছে জবাবদিহি চাইবেন বলে জানিয়েছেন। আজ, কমিটির সদস্যদের সাথে বৈঠকও বসবেন তিনি। সেখানেই নাকি বিষয়টি নিয়ে জোরালো আলোচনা হবে।

প্রসঙ্গত, বেশ কিছুদিন ধরেই শহরের হেভিওয়েট পুজোগুলিতে ভোলবদলের খবর শিরোনামে। রাতারাতি তৃণমূল ঘনিষ্ঠ থেকে বিজেপি ঘেঁষা হয়ে গিয়েছে বেশ কয়েকটি পুজোকমিটি। যা নিয়ে বেশ শোরগোল পড়েছে। সূত্রের খবর, আয়কর দপ্তর থেকে চাপ দিয়েই পুজো কমিটিগুলিতে হস্তক্ষেপ করতে চাইছে কেন্দ্রের শাসকদল। যাতে নড়েচড়ে বসেছে এ রাজ্যের শাসকদল। সংঘশ্রীর সভাপতি শিবশংকরবাবু সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তাঁকে না জানিয়ে পুজোকমিটি কীভাবে কাউকে সভাপতি করতে পারে। যদিও ক্লাবের একশীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, পুজো কমিটির সভাপতি করতে হলে ক্লাব কমিটির বৈঠক ডেকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আচমকা কমিটির একাংশকে অন্ধকারে রেখে রাতারাতি অন্য কাউকে সভাপতি করা যায় না।তবে তৃণমূল-বিজেপির এই দাড়ি টানাটানিতে শেষপর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায় কে ফিতে কাটবেন সেদিকেই নজর থাকবে সবপক্ষের।

Spread the love