আজকের সারাদিন করোনা দক্ষিণবঙ্গ প্রথম পাতা

গোটা রাজ্যের সাথে পাল্লা দিয়ে জেলা জুড়েও বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা।

তমলুকঃ গোটা রাজ্যের সাথে পাল্লা দিয়ে জেলা জুড়েও বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। ইতিমধ্যে গোটা পূর্ব মেদিনীপুর জেলা জুড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নোভেল করোনা আক্রান্তদের সংখ্যা। শুক্রবার রাতে স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী জেলায় ফের করোনা আক্রান্ত হয়েছেন তমলুকের এক হাতুড়ে ডাক্তার। তার বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের বল্লুক গ্রামে। ওই হাতুড়ে ডাক্তার গত কয়েকদিন আগে এলাকার প্রায় দেড়শো জন রোগীর চিকিৎসা করেছেন বলে জানা গেছে। আর এরপর শনিবার সকালে সকালে ওই ডাক্তারের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা তমলুক এলাকা জুড়ে।
উল্লেখ‍্য, গত কয়েকদিন আগে তমলুকের এক পান ব্যবসায়ীর মধ্যেও করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছ। জানা গেছে ওই পান ব্যবসায়ীর চিকিৎসাও করেছিলেন এই হাতুড়ে চিকিৎসক। ২৪ মার্চ ওই পান ব্যবসায়ী ব্যবসা করে কলকাতা থেকে নিজের বাড়ি বল্লুক গ্রামে ফেরেন। এর বেশ কিছুদিন পরে প্রবল জ্বর, সর্দি, কাশিতে ভুগতে শুরু করেন পেশায় পান ব্যবসায়ী ওই বৃদ্ধ। তখনই স্থানীয়দের মনে সন্দেহ জেগেছিল। এরপর ওই বৃদ্ধের চিকিৎসা শুরু করে তমলুকের এই হাতুড়ে ডাক্তার। তবে এরপর ওই ব্যবসায়ীকে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তার লালারস পরীক্ষার পর জানা যায় তিনি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়া মাত্রই জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফ থেকে তমলুকের ওই ব্যবসায়ীর পরিবারের লোকজনকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা ওই হাতুড়ে ডাক্তারের চিকিৎসা করার কথা জানতে পেরে তারও খোঁজ চালান। গত ২ এপ্রিল স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা ওই হাতুড়ে ডাক্তারকে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে তাকে তমলুক জেলা হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করে। এরপর চিকিৎসকের দেহের মধ্যে করোনার উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তার লালা রস সংগ্রহ করে কলকাতায় ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এরপর শুক্রবার রাতে ওই চিকিৎসকের রিপোর্ট আসার পরই চক্ষু চড়কগাছ হয় সকলের। স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্টে জানা যায় ওই হাতুড়ে ডাক্তার নোভেল করোনা আক্রান্ত। ইতিমধ্যে ওই চিকিৎসকের সংস্পর্শে আসা রোগীদের মধ্যেও ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই হাতুড়ে ডাক্তার গত কয়েকদিন ধরে প্রায় দেড়শো থেকে ২০০ জন রোগীর চিকিৎসা করেছেন। বর্তমানে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফ থেকে ওই ডাক্তারের সংস্পর্শে আসা রোগীদের চিহ্নিত করে এবং তার পরিবারের লোকজনকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে নিয়ে আসার কাজ চলছে। ইতিমধ্যে ওই করোনা আক্রান্ত হাতুড়ে ডাক্তারকে জেলার পাঁশকুড়ায় নবনির্মিত করোনা হাসপাতালে  চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিতাই চন্দ্র মন্ডল জানান, “রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে পাঠানো রিপোর্টে জানা গেছে ওই হাতুড়ে চিকিৎসক করোনা পজেটিভ। ইতিমধ্যে জেলার নতুন ওই করোনা আক্রান্তকে পাঁশকুড়ার নতুন করোনা হাসপাতলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
সবমিলিয়ে গোটা জেলা জুড়ে যেমন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা তেমনি জেলাবাসীর মনেও এখন আতঙ্ক আরও প্রকট হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সকলকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তরা।।
Spread the love