কলকাতা খেলাধুলা প্রথম পাতা

পশ্চিমবঙ্গে থেকে ইষ্টবেঙ্গলকে সর্মথন কেন? ময়দানে বির্তকের মধ্যেই ফের নয়া টুইট করে নিজের বক্তব্য বললেন তথাগত রায়

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাঙালী মানেই ফুটবল। আর ময়দান মানেই ইষ্টবেঙ্গল-মোহনবাগান।বৃহস্পতিবারই লাল-হলুদ ক্লাবের শতবর্ষ পূর্তির অনুষ্ঠান। সেজে উঠেছে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। প্রতিষ্ঠা দিবসের উৎসব ঘিরে লাল-হলুদ সমর্থকদের উত্তেজনাও তুঙ্গে। আবেগতাড়িত ভক্তরা ঐতিহাসিক দিনের সাক্ষী থাকার প্রহর গুনছেন।শুধু তাই নয় শহর ও শহরতলীর রাস্তায় লাল-হলুদ জার্সিতে নেমে পড়েছেন অগণিত সর্মথক।আনন্দ থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখতে পারেন নি ছোট-বড় নেতারা। আর এমন আনন্দময় পরিবেশকে রীতিমতো বিষাক্ত করে তুলল একটি টুইট। ‘পশ্চিমবঙ্গে বসে ইস্টবেঙ্গলকে সমর্থন করছেন কেন?’ মেঘালয়ের রাজ্যপাল তথাগত রায়ের এই টুইট ঘিরেই বিতর্কের ঝড় উঠেছে কলকাতা ময়দানে।বলার অপেক্ষা রাখে না তথাগতবাবু কী বোঝাতে চেয়েছেন। কিন্তু বর্ষীয়ান তথাগতর টুইট নিয়ে কার্যত ফুঁসছেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা।

ক্লাবের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, “তথাগতবাবু ইস্টবেঙ্গল ক্লাব তৈরির ইতিহাস জানেন না। আবেগ জানেন না। বলতে হয় বলে দিয়েছেন। তবে জেনে রাখুন, যতদিন ভারতবর্ষের ফুটবল থাকবে, ততদিন ইস্টবেঙ্গল ক্লাব থাকবে। লাল-হলুদ রঙ থাকবে।” তথাগত রায়ের টুইটের প্রতিক্রিয়ায় প্রাক্তন ফুটবলার মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “এটা একেবারেই রাজনৈতিক মন্তব্য। আমি এর প্রতিক্রিয়া দেব না।”মঙ্গলবার টুইটারে তথাগত রায় লেখেন, “ইস্টবেঙ্গল ক্লাব শতবর্ষের উৎসবে মেতে উঠেছে। কিন্তু এই ক্লাবের কর্তা বা কোনও সমর্থকদের মাথায় কি কখনও এসেছে, যে তারা পশ্চিমবঙ্গে বসে ইস্টবেঙ্গলকে কেন সমর্থন করছে?’ স্বাভাবিকভাবেই এমন টুইটে ক্ষুব্ধ লাল-হলুদ সমর্থকরা। একটি ক্লাবের নাম ইস্টবেঙ্গল বলেই যে এ রাজ্যে বসে তাকে সমর্থন করা যাবে না, এমন কথার কোনও যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না কেউই।গোটা বিষয়টিতে বেশ বিরক্ত ইস্টবেঙ্গলের সহ-সচিব শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্ত। বলেন, “একটা ক্লাবের নামের সঙ্গে অন্যকিছু গুলিয়ে ফেলাটা ভুল হবে। রাজনীতিবিদরা সব বিষয়েই রাজনীতির রং লাগাতে চান। যেটা মেনে নেওয়া যায় না। ওঁদের মনে রাখতে হবে, আমরা ভোট দিয়ে ওঁদের জনপ্রতিনিধি করি। তাই মানুষের আবেগে আঘাত লাগে, এমন কিছু বলা ওদের উচিত নয়।

 

তথাগত রায়ের মন্তব্য ঘিরে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে ফের টুইট করতে হয় তাঁকে। পরের টুইটে তিনি বাংলায় লেখেন, “ভাষার সমস্যা হতেই পারে-বিদেশি ভাষা তো! যদি আমি পাঁচ মিনিটের জন্য ঠান্ডা মাথায় ভাবি, ওয়েস্ট বেঙ্গলে থেকে কেন আমি ইস্টবেঙ্গল সমর্থক, তাহলেই সত্যটা বেরিয়ে আসবে। আমার বাড়ি ছিল পূর্ব বাংলায়, সেখানে আমার যাবার অধিকার নেই। আমার বক্তব্য, এই কথাটা যেন আমরা বাঙালরা কখনও ভুলে না যাই।” উদ্বাস্তুদের ক্ষোভের কথাই তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি। যদিও এতেও সমর্থকদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি।তাদের অনেকেরই দাবি, রাজ্যপালের মতো একটি সাংবিধানিক পদে বসে বঙ্গের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের নামকে অপমান করতে পারেন না তিনি।

 

 

 

Spread the love