প্রথম পাতা

ভাঙড়ের ভোট কোন দিকে, ভাবাচ্ছে শাসক-বিরোধী দু’দলকেই

নিজস্ব প্রতিনিধি— এবারের ভোটে রাজ্যের সব রাজনৈতিক দলের নজর থাকবে যাদবপুর কেন্দ্রের ভাঙড়ের দিকে। কারণ ইতিমধ্যেই ভাঙড়ের জমি জীবিকা বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি ঘোষণা করে দিয়েছে আসন্ন লোকসভা ভোটে তারা সিপিআইএম প্রার্থীকেই সমর্থন করবে। এই ঘোষণাকে তৃণমূল পাত্তা না দিলেও ভেতরে ভেতরে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে তাদের কপালে। কারণ, ভাঙড় বিধানসভার ১৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত অঞ্চলে কোন দলের কত সমর্থক আছেন সেই আছেন সেই ছবি মোটামুটি সব পক্ষের কাছেই পরিষ্কার। কিন্তু ধাঁধায় ফেলেছে পাওয়ার গ্রিড সাব স্টেশন অধ্যুষিত পোলেরহাট ২ গ্রাম পঞ্চায়েত অঞ্চল। সেখানকার মানুষ তাঁদের ভোট কোন পক্ষকে উজাড় করে দেবেন তা নিয়ে সন্দিহানে দুই পক্ষই। যদিও তৃণমূল, বাম দুই দলেরই দাবি, পাওয়ার গ্রিড অঞ্চলে তাঁরাই ফেভারিট।

পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর এবার লোকসভাতেও তৃণমূলকে আটকাতে সিপিআইএম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য-কেই সমর্থন করছে ভাঙড়ের জমি জীবিকা বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি। এই নিয়ে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সঙ্গে জমি কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বের একান্ত বৈঠক-ও হয়েছে। দিন দুই আগে মাছিভাঙা গ্রামে এক ঘরোয়া বৈঠকে বিকাশবাবুর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দিপালী ভট্টচার্য্য, বিশিষ্ঠ আইনজীবি ভারতী মুৎসুদ্দি। বৈঠকে ছিলেন জমি কমিটির মুখপাত্র অলিক চক্রবর্তী-সহ মির্জা হাসান, অলি মহম্মদ, সাজারুল ইসলাম, মোশারেফ হোসেন ও আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতৃত্ব। সেখানে ঠিক হয় ভাঙড়ে বাম প্রার্থীর হয়ে প্রচার করবে জমি কমিটি। ভাঙড় থেকে বিকাশ বাবু-কে যতটা বেশি সম্ভব ভোটের লিড দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

যদি ভাঙড়ের জমি জীবিকা বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির সমর্থনকে অবশ্য আদৌ গুরুত্ব দিচ্ছে না তৃণমূল কংগ্রেস। ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমাদের সরকার গোটা রাজ্যে কী উন্নয়ন হয়েছে আর জমি কমিটির লোকেরা কী ভাবে দুর্নীতি করেছেন – সেটা তুলেই প্রচার হবে। ২০১৪ সালে আমরা পোলেরহাট ২ গ্রাম পঞ্চায়েত অঞ্চল থেকে সাড়ে সাত হাজার ভোটের লিড পেয়েছিলাম। এবার সেটা আরও বাড়বে।’

তবে আরাবুলরা মুখে যে কথাই বলুক না কেন, জমি কমিটির এই সিদ্ধান্তে কিছুটা হলেও চিন্তার ভাঁজ পড়েছে তৃণমূলের অন্দরমহলে। অন্তত গত পঞ্চায়েত ভোটের ফলাফল সেটাই বলছে। সেই ভোটের ভোটব্যাঙ্কে একচেটিয়া থাবা বসিয়ে ছিল জমি রক্ষা কমিটি।

উল্লেখ্য, ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী সুগত বসু ভাঙড় থেকে ৬০ হাজার ভোটের লিড পেয়েছিলেন। ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে সেখানে তৃণমূল প্রার্থী রেজ্জাক মোল্লার জয়ের ব্যবধান নেমে যায় একধাক্কায় ২০ হাজারে। আর শেষ পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় এই চিত্র আরও বদলে গিয়েছিল। অলীক চক্রবর্তীর নেতৃত্বে জমি কমিটি তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়েছিল। ৬টি আসনে তাদের প্রার্থী জয়ী হয়।

সুতরাং এই লোকসভা ভোটে ভাঙড় থেকে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান বাড়াতে যে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এবার কী হয় সেটাই এখন দেখার।

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।