জেলা প্রথম পাতা রাজ্যের খবর

তারের জালের কারখানাতেই কি লুকিয়ে নরেন্দ্রপুরের দম্পতি খুনের রহস্য?

নিজস্ব প্রতিনিধি : নরেন্দ্রপুরে দম্পতি খুন ক্রমশ জটিল রহস্যে পরিণত হচ্ছে। যদিও কী কারণে এই খুন,তা এখনও স্পষ্ট নয় পুলিশের কাছে। পুলিশের প্রাথমিকভাবে অনুমান, নরেন্দ্রপুরের ওই জমিতে ব্যবসা সংক্রান্ত কোনও কারণে খুন হয়ে থাকতে পারে ওই দম্পতি। অথবা পুলিশের অনুমান, ব্যক্তিগত সমস্যার জেরেই ওই দম্পতি খুন হয়েছেন।

মঙ্গলবার সকালে নরেন্দ্রপুরের তিউড়িয়ায় বাড়ির বাথরুম থেকে উদ্ধার হয় ট্রলিব্যাগে বন্দি আলপনাদেবী ও প্রদীপবাবুর খণ্ড খণ্ড দেহ। ওই বাড়িটির কেয়ারটেকার হওয়ার সূত্রে প্রায় ২০ বছর ধরে ওই বাড়িতে বাস করছিলেন তাঁরা। দুজন মিলেই বাগানবাড়ির দেখভাল করতেন। রবিবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা হয় তাঁদের। এই ঘটনার নৃশংসতায় আতঙ্কিত এলাকাবাসীরা।

নরেন্দ্রপুরের বাগানবাড়ি থেকে উদ্ধার দম্পতির টুকরো টুকরো দেহ

পুলিশ জানিয়েছে, নরেন্দ্রপুরে ১৫ কাঠা জমির ওপর এই বাগানবাড়ির দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন ওই দম্পতি। ওই বাগানবাড়ির জমিতে একটি তারের জাল তৈরির কারখানা বানানোর কথাবার্তা চলছিল মালিকের সাথে। কিন্তু বাধা দিয়েছিল কেয়ারটেকার দম্পতি। তার জেরে কোনও বিরোধকে কেন্দ্র করে এই খুন কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতদের ঘরের ১০টি আলিমারির মধ্যে একটি খুলতে পারেনি আততায়ীরা। ওই আলমারিতে প্রায় ২.৫ লক্ষ টাকা ছিল। অন্যদিকে, ৫ দিন আগে ব্যাঙ্ক থেকে ৫০ হাজার টাকা তোলেন ওই দম্পতি। এই টাকার কথা কি জানত আততায়ীরা? মৃতদের বাড়ির একটি উইল ছিল বলে জানতে পেরেছে তদন্তকারীরা। তবে সেই উইলের কোনও হদিশ মেলেনি। এছাড়াও জানা গিয়েছে, গত ৭ দিন আগে সিলিংয়ের কাজ করতে মৃতদের বাড়িতে কয়েকজন মিস্ত্রি এসেছিলেন। খুনের সঙ্গে তাঁদের যোগ রয়েছে কি না খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বাগানবাড়ি থেকে একটি টিভি সরানো হয়েছে বলে খবর। মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন ওই দম্পতি। একজনের ফোন পাওয়া গেলেও। অন্যজনের ফোন এখন মিসিং আছে।

পুলিস বাড়ির মালিক দীপঙ্কর দে-এর সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছে, ”স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে সম্প্রতি কথা হয়েছিল তাঁর। ওই ব্যবসায়ী এই জমিতে তারের জালের কারখানা তৈরি করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তাকে।”

 

Spread the love