জেলা প্রথম পাতা রাজ্যের খবর

অপেক্ষা শুধু দিল্লির শিলমোহরের! তৃণমূলকে ঠেকাতে এবার খড়্গপুর উপনির্বাচনে লড়তে পারেন বঙ্গ বিজেপির এক হেভিওয়েট নেতা 

নিজস্ব প্রতিনিধি:রাজ্য বিধানসভার ভিতরে এবার এক হেডিওয়েট বিজেপি নেতাকে পাঠাতে চাইছে বঙ্গ বিজেপির নেতারা। মুখ্যমন্ত্রী এবং শাসক তৃণমূলকে চূড়ান্তভাবে বিব্রত করতে চমক দেওয়া প্রস্তাব ইতিমধ্যেই পেশ হয়েছে বিজেপি’র শীর্ষস্তরে। মূলত সংশ্লিষ্ট জেলা এই প্রস্তাব দিলেও, এতে সহমত প্রকাশ করেছে রাজ্যের একাধিক নেতা। বিজেপি’র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ মেদিনীপুর আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ায় ইস্তফা দিয়েছেন বিধায়ক পদে। তিনি খড়্গপুর- সদর কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। লোকসভা ভোটে দিলীপ ঘোষ পান৬,৮৫,৪৩৩ ভোট। প্রতিপক্ষে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডাঃ মানস ভুঁইয়া পান  ৫, ৯৬,৪৮১ ভোট। বিজেপি সভাপতি এই কেন্দ্রে জয়ী হন ৮৮, ৯৫২ ভোটের ব্যবধানে। এই বিশাল ব্যবধান গড়ে দিতে কার্যকর ভূমিকা নেয় দিলীপবাবুর বিধানসভা কেন্দ্র খড়্গপুর- সদর। শুধুমাত্র এই কেন্দ্র থেকেই দিলীপ ঘোষ লিড পান ৪৫,১৩২ ভোট। ফলে খড়্গপুর- সদর বিধানসভা কেন্দ্রটিকে এই মুহূর্তে বিজেপির দুর্গ বলা একদমই ভুল নয়। খড়্গপুর-সদর বিধানসভা কেন্দ্র-সহ রাজ্যের একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের উপ-নির্বাচন যে কোনদিনই ঘোষনা হতে পারে। আর সেখানেই চমক দিতে চাইছে বিজেপি। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজেপি নেতার প্রস্তাব, পরবর্তী বিধানসভা ভোট পর্যন্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সরকারকে চূড়ান্তভাবে বিব্রত করতে খড়্গপুর-সদর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে দল প্রার্থী করুক মুকুল রায়কে। এই কেন্দ্র থেকে মুকুল রায়ের জয় ঠেকানোর ক্ষমতা এই মুহূর্তে তৃণমূলের নেই। ২০১৬-র বিধানসভা ভোট এবং ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের ফল বলছে, এই কেন্দ্রে বেশ কয়েক কদম এগিয়ে আছে বিজেপি। বঙ্গ-বিজেপির শীর্ষনেতাদের একাংশ এই প্রস্তাব সমর্থন করেছে। বিধানসভায় মুকুল রায় পা রাখলে সরকার অস্বস্তিতে পড়বে। তিনি  অন্য দলের বিধায়কদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলার সুযোগ পাবেন। সর্বদল বৈঠকে মুকুল রায়ই যোগ দেবেন। বিতর্কে অংশ নিলেই সরকার ভীত হবে। ফলে, তৃণমূল সরকার আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য বলে মনে করছে রাজ্য বিজেপি। তবে বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি দু’ভাবে যুক্ত দিলীপ ঘোষ। প্রথমত তিনি রাজ্য সভাপতি। উপ নির্বাচনে দলের কে প্রার্থী হবেন, তা স্থির করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তাঁর আছে। দ্বিতীয়ত, খড়্গপুর-সদর কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক তথা এই কেন্দ্রটি যে লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সেই মেদিনীপুরের সাংসদ তিনি। ফলে দিলীপবাবুর সবুজ সংকেত এ ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ন।

রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, এমন হলে, তা হবে এ রাজ্যে বিজেপির সর্বশ্রেষ্ঠ মাষ্টারস্ট্রোক। তৃণমূল বা মুখ্যমন্ত্রীকে বিব্রত করতে বা আতঙ্কে রাখতে, এর থেকে বড় কৌশল আর কিছুই হতে পারেনা। দল যদি এই প্রস্তাবে সিলমোহর দেয়, সেক্ষেত্রে নতুন ইনিংস খেলতে হবে ‘চাণক্য’ মুকুল রায়কে। চমক দেখানোর রাজনীতিতে  তাঁর থেকে এগিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্যে দ্বিতীয় আর কেউই নেই।

Spread the love