অফবীট জেলা রাজ্যের খবর

পূর্ণিমার ভরা কোটালে নদীবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী ব্লকের দু’টি গ্রাম।

একে করোনা, তায় দোসর হয়ে দেখা দিল ভরা কোটাল। বৃহস্পতিবার পূর্ণিমার ভরা কোটালে নদীবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী ব্লকের দু’টি গ্রাম। ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কিছু মাটির বাড়ি, চাষের জমি এবং পুকুরের মাছ ও চিংড়ি। পাশাপাশি, দুর্বল মাটির নদীবাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ায় বিপদের মুখে পাশের ব্লক গোসাবার কিছু এলাকাও। এ দিন উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁ ব্লকের কিছু এলাকাও বিদ্যাধরী নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে।
মাতলা নদীতে এদিন জোয়ারের সময় ভরা কোটালের কারণে জলস্তর বাড়ছিল। হঠাৎই মাটির বাঁধের ২৫ মিটারের বেশি অংশ ভেঙে বাসন্তীর ফুলমালঞ্চ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার গৌরদাসপাড়া ও চোরাডাকাতিয়া গ্রামে নোনা জল ঢুকতে শুরু করে। লকডাউনে ঘরবন্দি গ্রামবাসীরা দিশাহারা হয়ে পড়েন। প্রথমে কিছু গ্রামবাসী কোদাল, ঝুড়ি নিয়ে বাঁধ মেরামত করতে উদ্যোগী হলেও প্রবল জলের দাপটে হার মানতে হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান বাসন্তীর বিডিও সৌগত সাহা ও বাসন্তী থানার ওসি সোমেন বিশ্বাস-সহ পুলিশকর্মীরা। চলে আসেন বাসন্তীর সেচ দপ্তরের এসডিও মনোজিৎ চক্রবর্তীসহ অন্যান্য সেচ কর্মচারীরাও। কিন্তু তার আাগেই দু’টি গ্রামের চাষের জমি ও পুকুরগুলি সম্পূর্ণভাবে নোনা জলে ভরে গিয়েছে। নদীতে ভাটা পড়তে শুরু করলে নদী বাঁধ মেরামতের কাজে হাত লাগায় সেচদপ্তর। ব্লক প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান প্রায় ২০০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিনই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারপিছু ১২ কিলোগ্রাম করে চাল দেওয়া শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল মোল্লা বলেন, ‘নদীবাঁধের খুবই খারাপ অবস্থা ছিল। আমরা সেচদপ্তরের পাশাপাশি ব্লক প্রশাসনকেও জানিয়েছিলাম। সেচদপ্তর সম্প্রতি কাজ শুরু করলেও তা শেষ হয়নি।’ দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক পি উলগানাথন বলেন, ‘বাসন্তীতে দ্রুততার সঙ্গে ভাঙা নদীবাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করেছে সেচদপ্তর। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের চাল ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী দিয়েছি।’
অপরদিকে এ দিন মাতলা ও বিদ্যা নদীর বাঁধে ফাটলের খবর মিলেছে বাসন্তীর চুনাখালি এবং ভরতগড় এলাকাতেও। এছাড়াও গোসাবার কুমিরমারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা জুড়ে কোরানখালি নদীর বাঁধেও ফাটল দেখা দেওয়ায় লাগোয়া বাগনাপাড়া ও বৈদ্যপাড়ায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, বসিরহাটের মিনাখাঁর চৈতল পঞ্চায়েতের নেরুলি এলাকায় এদিন সকালে জলের তোড়ে বিদ্যাধরী নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। স্থানীয় সূত্রের খবর, মাটির বাঁধের প্রায় ৫০ ফুট অংশ ভেঙে গ্রামে জল ঢুকতে শুরু করে। করোনাকালে ঘরবন্দি বাঁধ সংলগ্ন এলাকার মানুষ জলবন্দি হয়ে পড়েন। নদীর জলে ভেসে যায় মাছের ভেড়িগুলি। গ্রামের মানুষ বালির বস্তা দিয়ে বাঁধের জল আটকানোর চেষ্টা করলেও ফল মেলেনি। এ দিন দুপুরে বিডিও-সহ ব্লক প্রশাসনের কর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

Spread the love