কলকাতা জেলা প্রথম পাতা রাজনৈতিক

‘জাগো বাংলা’ নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো

দেবাশিস দাস

বর্তমান পরিস্থিতির উপর দাঁড়িয়ে দলীয় মুখপত্র ‘জাগো বাংলাকে আরও বেশি করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বড়সড় সিদ্ধান্তের পথে হাঁটতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও সেই সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের কথা বিশেষভাবে রাজ্য জুড়ে প্রচার করতে দলীয় মুখপত্রকে আরও বেশি মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে বলে শাসকদল সুত্রে জানা গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার দুই প্রাক্তন সাংসদ স্বপন সাধন বসু, সৃঞ্জয় বসুদের দৈনিক পত্রিকা প্রতিদিন প্রকাশনী প্রাইভেট লিমিটেড থেকে বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে এই পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছিল। এবার এক্ষেত্রেও পরিবর্তন ঘটতে চলেছে বলে খবর। জাগো বাংলার আগামী সংখ্যা অন্য একটি বাংলা দৈনিক পত্রিকার ছাপাখানা থেকে প্রকাশিত হতে চলেছে— এমনটাই জানা যাচ্ছে। সল্টলেক-বিধাননগর থেকে প্রকাশিত হবে শাসক দলের এই মুখপত্র। সম্পাদকীয় সাহায্য এতদিন প্রতিদিন পত্রিকার তরফ থেকে করা হতো। এবার অন্য একটি বাংলা দৈনিক এই সম্পাদকীয় সহযোগিতা করবে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও এই নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব আপাতত মুখে কুলুপ এঁটেছে। ভাবনা চিন্তা চলছে ‘জাগো বাংলা’ পত্রিকাকে দৈনিক করা যায় কিনা? আচমকাই কেন প্রতিদিন প্রকাশনী থেকে অন্য একটি পত্রিকার ছাপাখানা থেকে প্রকাশিত হবে জাগো বাংলা তা নিয়ে দলের অন্দরে চাঞ্চল্যও কোন অংশে কম নয়। কারণ এতদিন যেখান থেকে পত্রিকা প্রকাশিত হতো সেই পত্রিকার দুই কর্ণধারই রাজ্যের শাসক দলের যথেষ্টই ঘনিষ্ঠ। ফলে ঠিক কি কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে তৃণমূল তা নিয়ে নতুন করে কৌতুহল তৈরি হয়েছে। তবে কি যেখান থেকে প্রকাশিত হতো তারা রাজি হচ্ছেন না, না কি তৃণমূল কংগ্রেস দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরিয়ে নিচ্ছেন পত্রিকাটিকে এই প্রকাশনী থেকে ছাপতে। এই নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

পত্রিকাটিকে আরও জনপ্রিয় করতে সেই সঙ্গে তৃণমূল সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, সেই সঙ্গে বিরোধীরা যেভাবে বিভিন্ন ইস্যুকে সামনে রেখে রাজ্যের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে তার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে জাগো বাংলাকে আরও বেশি ক্ষুরধার করার কথা ভাবছে এই পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগ। বর্তমানে জাগো বাংলার সম্পাদক পদে রয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য পার্থ চট্টোপাধ্যায়। পনেরো বছর ধরে এই পত্রিকা চলছে। সাপ্তাহিক হিসাবে এই পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে ডেরেক ও ব্রায়েন কর্তৃক তৃণমূল ভন, ৩৬ ডি তপসিয়া রোড, কলকাতা থেকে প্রকাশিত হচ্ছে জাগো বাংলা। বর্তমানে জাগো বাংলার সম্পাদকীয় বিভাগ দেখার জন্য একজন প্রবীণ বিশিষ্ট সাংবাদিককে দায়িত্ব ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্নের সময় থেকেই দলীয় মুখপত্রের প্রয়োজনীয়তার কথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় শীর্ষ নেতাদের জানান। সেই সময় তৃণমূল সুপ্রিমোর কালীঘাটের বাড়িতে জাগো বাংলা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কারণ দলীয় নেতা কর্মীদের দলের নীতি জানানোর জন্য দলের একটি পত্রিকা জরুরি ছিল। সেই কারণেই জাগো বাংলার আত্মপ্রকাশ ঘটে। বিগত বাম সরকারের সময় সমালোচনা করে অনেক লেখা তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা লিখেছিলেন। এখন দল ক্ষমতায়। সেই লেখার ট্রাডিশন আজও বদলায়নি। মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, পূর্ণেন্দু বসু থেকে শুরু করে বিভিন্ন দফতরের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের নিয়মিত কলাম দেখা যায় জাগো বাংলায়। সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ সেই সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনস্বার্থ বিরোধী কর্মসুচির সমালোচনা করেও লেখা প্রকাশিত হয়ে আসছে শাসক দলের এই মুখপত্রে। দলের বিভিন্ন বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা যেতো যদি তাঁদের একটি নিজস্ব টিভি চ্যানেল ও একটি দৈনিক সংবাদপত্র থাকতো তাহলে অন্য সংবাদমাধ্যমের উপর নির্ভরতা কিছুটা হলেও কমতো। মানুষকে দল এবং রাজ্য প্রশাসন কি চায় সেই খবর সঠিক ভাবে পরিবেশন করা সম্ভব হতো। আগামীতে জাগো বাংলাকে দৈনিক করা যায় কিনা তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। কিন্তু বেশ কয়েক বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে কেন জাগো বাংলা অন্য একটি দৈনিকের ছাপাখানা থেকে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।