কলকাতা জেলা প্রথম পাতা

আজ পিকের সঙ্গে অভিষেকের বাড়ির সামনে দলীয় কার্যালয়ে বৈঠকে বসছেন তৃণমূল জেলা সভাপতিরা

‘মৌন্যব্রত’ ভেঙে কি বার্তা দেবেন তিনি?

দেবাশিস দাস

পুরোদমে কাজ শুরু করে দিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। ঘাঁটি গেড়েছেন কলকাতায়। লক্ষ্য একটাই মমতার হ্যাটট্রিক। ২০১১, ২০১৬ একাই তৃণমূলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মমতা সামনে থেকে। এবারও মমতাই মুখ। কিন্তু এবার তৃণমূল কংগ্রেসকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছেন তৃণমূল। ২০২১শেও আমরাই ফিরব। ইতিমধ্যেই এই বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এবার বাস্তবে তা করে দেখানোর জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে শাসকদলের অন্দরে। লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি’র ১৮টি আসন তৃণমূলকে উদ্বেগে রাখলেও পিছু হঠতে রাজি নয় শাসকদল। সেকারণে প্রশান্ত কিশোরের আবির্ভাব ঘটেছে শাসকদলে। একদিকে তার মস্তিষ্ক অন্যদিকে মমতার প্রতি আমজনতার আবেগকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটবাক্সে বসন্ত আনার জন্য কর্পোরেট সংস্থার তরুণ-তরুণীরা বাংলার মাঠে নেমেছেন। প্রথম প্রশান্ত কিশোর উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সাংগঠনিক বৈঠকে। সেদিন আগাগোড়াই তৃণমূল ভবনের বৈঠকে প্রশান্ত কিশোর উপস্থিত থাকলেও একবারের জন্যও মুখ খোলেননি। নবান্নে দু’বার বৈঠক করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। বৃহস্পতিবারও ঘণ্টাখানেক বৈঠক করেছে তৃণমূল সুপ্রিমোর সঙ্গে। এখনও পর্যন্ত প্রশান্ত কিশোর নিজে দলীয় নেতাদের সামনে একবারের জন্যও মুখ খোলেননি। শুধু নোটবুকে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য তিনি টুকে নিয়েছেন। আজ, শুক্রবার সম্ভবত তার নীরব থাকার পালা শেষ হতে চলেছে। সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন কার্যালয়ে রাজ্যের শাসকদলের সব জেলার জেলা সভাপতিদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রশান্ত কিশোর। এই বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থাকার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার থেকেই শুরু হয়েছে এই বৈঠক নিয়ে তৎপরতা। জেলা সভাপতিদের সকাল ১১টার আগেই বৈঠকে আসার জন্য বলা হয়েছে। দলের শীর্ষনেতাদের তরফে এই বার্তা গিয়েছে শাসকদলের জেলা সভাপতিদের কাছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি রাজ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে পরামর্শ দিয়ে প্রশান্ত কিশোর এখন একটি পরিচিত নাম। তিনি একটা সময় বিজেপি’র সঙ্গে ছিলেন, পরে জেডিইউ এবং সর্বশেষ তেলেঙ্গানায় জগনমোহ্নকে পরামর্শ দিয়ে তার সংস্থাকে শিখরে তুলে নিয়ে এসেছেন। বদলে দিয়েছেন রাজনৈতিক মানচিত্র। বাংলায় কিছুটা ব্যাকফুটে থাকা তৃণমূলকে ভোকাল টনিক দিতে প্রশান্ত কিশোর কি বার্তা দেন তা নিয়ে জেলা সভাপতিদের মধ্যে নতুন করে কৌতুহল শুরু হয়েছে। এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে কি বলেন, এই নিয়ে শাসকদলের নেতা-মন্ত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ যেমন ছিল, তেমন কৌতুহলও কোনও অংশে কম ছিল না। বহুবার তৃণমূল সুপ্রিমোর সঙ্গে বৈঠক করে দলীয় নেতাদের মধ্যে সেই আগের মতো কৌতুহল আর নেই। কিছুটা হলেও থিতিয়ে গিয়েছে। এবার পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর কি বলেন। সেটাই ভাবাচ্ছে শাসক নেতাদের। কারণ, সম্প্রতি কাটমানি ইস্যু নিয়ে রাজ্য তোলপাড়। শাসক নেতাদের একাংশকে বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হয়েছে। কাটমানি ইস্যকে ঘিরে পদক্ষেপ তৃণমূলের পক্ষে ভালো না খারাপ হল, এই নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত রাজনৈতিক মহল। অনেকে বলা শুরু করেছেন, এটা বাংলার মাটি। এখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই শেষ কথা। প্রশান্ত কিশোর কতটা ফ্যাক্টর হবে তা সময়ই বলবে। বিরোধীরা বলছেন, আগের মতো সেই জনপ্রিয়তা নেই শাসকদলের শীর্ষ নেতাদের। সেকারণেই প্রশান্ত কিশোরকে নিয়ে ক্ষয় মেরামতের চেষ্টা। দলের শীর্ষ নেতাদের একাংশের কথায় উঠে এসেছে, সমস্যার গভীরে গিয়ে সমস্যার সমাধান কবেই বা এই দলে হয়েছে। এই দল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই ঘিরে। তার প্রতি আবেগই মানুষকে তৃণমূলমুখী করেছে। এই প্রথম তৃণমূল বিরোধী ভোট এক হওয়ায় শাসকদল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এরকম অনেক মন্তব্য ভেসে আসছে বিভিন্ন শিবির থেকে। শাসকদলের প্রভাবশালী নেতাদেরও তা অজানা নয়। এমনই এক পরিস্থিতির ওপর দাঁড়িয়ে জেলা সভাপতিদের কি বার্তা দেন পিকে, সেটাই এখন মূল বিবেচ্য বিষয়। উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গে তৃণমুলের ফল আশানুরূপ নয়। ইতিমধ্যে এই দুই বঙ্গ থেকে তৃণমুলের খারাপ ফলাফলের জন্য কি কি কারণ দায়ী তা অনেক গভীরে গিয়ে প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার তরুণ-তরুণীরা তথ্য সংগ্রহ করে এনেছেন। সেই তথ্যকে সামনে রেখেই প্রথমে হয়তো প্রশান্ত কিশোর জেনারেল কিছু বার্তা দেবেন, তারপর বিধানসভা ধরে ধরে তিনি তার পরামর্শ দেবেন, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। এমনই অনেক সম্ভাবনাকে সামনে রেখে পিকে’র মুখোমুখি হচ্ছেন শাসক নেতারা, যেখানে শিক্ষকের ভূমিকায় পিকে আর ছাত্র-ছাত্রীদের ভূমিকায় প্রভাবশালী অনুব্রত মণ্ডল থেকে শুরু করে ঝাড়গ্রামের বীরবাহা সোরেনরা। যদিও আজকের বৈঠকে অনুব্রতের অনুপস্থিতি থাকার সম্ভাবনা বেশি। কারণ, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি এসএসকেএমে ভর্তি রয়েছেন।

Spread the love