দেশ প্রথম পাতা

দুর্ঘটনার সকালেও কালো রং ছিল না নম্বর প্লেটে, উন্নাওকাণ্ডে ট্রাক মালিকের বয়ানে বিভ্রান্তি

নিজস্ব প্রতিনিধি : কয়েক ঘণ্টাও আগেও পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল নম্বর প্লেট। কিন্তু ‘দুর্ঘটনা’র আগে তার উপর লেপে দেওয়া হয় কালি! উন্নাও ধর্ষণ মামলায় ট্রাক চালক নিয়ে উঠে এল নয়া তত্ত্ব। রবিবারের দুর্ঘটনার পর ট্রাক মালিক দেবেন্দ্র সিংকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস।

তদন্তে দেবেন্দ্রর দাবি ছিল, ইনস্টলমেন্ট মেটাতে না পারায় এজেন্টের থেকে এড়িয়ে চলতেই কালি লেপে দিয়েছিলাম ট্রাকের নম্বর প্লেটে। সত্যিই কি গাড়ির টাকা মেটাতে পারেননি দেবেন্দ্র?

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার উন্নাও থেকে রায়বরেলী যাওয়ার পথে গুরবক্সগঞ্জে নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারের গাড়িতে ধাক্কা মারে উল্টো দিক থেকে ছুটে আসে একটি ট্রাক। ওই দিন ভোর ৫টা ২০ মিনিট নাগাদ ‘দুর্ঘটনা’স্থল থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে, লালগঞ্জ টোল প্লাজা পেরোয় সেটি। তখন নম্বর প্লেটের উপর কোনও কালি ছিল না। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল রেজিস্ট্রেশন নম্বর। তা হলে ওই লম্বর প্লেটে কালি লেপা হল কখন? এই প্রশ্নই এখন ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের।

‘‘উন্নাও কাণ্ড নিয়ে মাকে প্রশ্ন, মন্ত্রীকে নয়’, কি বলবেন? স্মৃতিকে প্রশ্ন শতাব্দীর

সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে ওই সংস্থার এক আধিকারিক জানান, ব্যাঙ্কের তরফ থেকে বলা হয় কখনওই টাকা উদ্ধারের জন্য কারোর উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়নি। এর আগেও দেবেন্দ্র ওই সংস্থা থেকে গাড়ি কিনেছেন এবং নির্ধারিত সময়ে ধার মিটিয়ে দিয়েছেন। ওই আধিকারিকের দাবি, এবার ইএমআই দিতে দেরি করেছিলেন কিন্তু শেষমেশ তিনি সব টাকা দিয়ে দিয়েছেন। ওই গাড়ির ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ রয়েছে বলে দাবি ওই সংস্থার। এরপরই গাড়ি মালিকের বক্তব্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়।

তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ট্রাকমালিক আর ঋণদাতা সংস্থার মালিকের মধ্যে কে সত্যি বলছেন?

রায়বরেলীর পুলিশ সুপার সুশীলকুমার সিংহ বলেন, ‘‘সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মনে হচ্ছে, টোল প্লাজা থেকে বেরনোর পরেই নম্বর প্লেটের উপর কালি লেপে দেওয়া হয়। কী কারণে কালি লেপা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’

ধর্ষিতার পরিবারের অভিযোগ, বন্দি বিধায়ক কুলদীপ সেনগারই ষড়যন্ত্র করে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন। তিনি নিজের কুকর্মের প্রমাণ লোপ করতে ধর্ষিতা ও তার পরিবারকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। ওই দুর্ঘটনার পরে সারা দেশেই হইচই শুরু হয়। বিজেপি কুলদীপকে বহিষ্কার করে। দুর্ঘটনার তদন্তের দাবি সিবিআইকে দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে।

গত রবিবার উন্নাওয়ের ধর্ষিতা ও তার পরিবারকে নিয়ে একটি গাড়ি ফিরছিল রায় বরেলি থেকে। একটি ট্রাক সুইফট ডিজায়ার গাড়িটিকে ধাক্কা মারে। দু’জন নিহত হন। অভিযোগকারিণী মেয়েটি নিজেও গুরুতর আহত হয়েছে।

Spread the love