প্রথম পাতা বিনোদন

‘জীবন-মৃত্যুর কোনও নিশ্চয়তা নেই!বেঁচে থাকতে বায়োপিকটা দেখতে চেয়েছিলাম’, ‘সুপার ৩০’ রিলিজের আগেই জীবনের কঠিন সত্যি জানালেন আনন্দ

নিজস্ব প্রতিনিধি : “বাবুমশাই ইয়ে জিন্দেগি বড়ি হোনি চাহিয়ে, লম্বি নেহি…” রাজেশ খান্নার এই সংলাপ আজও সিনেপ্রেমীদের যেনো মনের কোথাও একটা গেথে আছে।  আর হৃত্বিক অভিনীত ছবি ‘সুপার ৩০’ নায়ক আনন্দ কুমার নিজের জীবনের জন্যে এই সংলাপটি বেচে নিয়েছে। সম্প্রতি আনন্দ জানিয়েছেন, “জীবন-মৃত্যুর কোনও নিশ্চয়তা নেই। তাই বেঁচে থাকতে থাকতে আমার বায়োপিকটা দেখতে চেয়েছিলাম।” ১২ জুলাই মুক্তি পাবে আনন্দ কুমারের বায়োপিক ‘সুপার ৩০’।

গণিতবিদ আনন্দ কুমার জানিয়েছেন তিনি অ্যাকাউস্টিক নিউরোমায় আক্রান্ত, অর্থাৎ কান থেকে মস্তিষ্ক পর্যন্ত যে স্নায়ু রয়েছে তাতে একটি টিউমার হয়েছে আনন্দের। তাই আনন্দ নিজেই চেয়েছিলেন, বেঁচে থাকতে নিজের কাজের সাক্ষী থাকতে। চেয়েছিলেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ছবিটি শেষ হোক।

একটি সাক্ষাৎকারে আনন্দ বলেছেন, নিজের বায়োপিক রিলিজ হওয়ার ব্যাপারে খুবই তাড়ায় ছিলেন তিনি। এমনকী ছবির গল্পকারও চেয়েছিলেন যাতে আনন্দ খুব তাড়াতাড়িই সম্মতি দিয়ে দেন। আনন্দের কথায়, “জীবন-মৃত্যুর কোনও নিশ্চয়তা নেই। তাই বেঁচে থাকতে থাকতে আমার বায়োপিকটা দেখতে চেয়েছিলাম।” আনন্দ বলেন, “টাকার জন্য কারও পড়াশোনা হবে না, কেরিয়ার থেমে যাবে, এটা ভাবতেই পারি না আমি। চাই ও না এসব ভাবতে। শুধু কাজ করতে চাই ওদের জন্য। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত। এখন সুস্থ আছি। সেই সময় আমার বায়োপিক রিলিজ হচ্ছে। আশাবাদী জীবনে যা কাজ করব, সেটা ঠিকভাবে আমার দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেবেন বাকিরা।”

তিনি আরও বলেন, “২০১৪ সালে আমার অবস্থা এতই খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে আমি ডান কান দিয়ে শুনতেই পাচ্ছিলাম না। পাটনায় বেশ কিছু জায়গায় চিকিৎসাও করাই। তারপর কয়েকটি পরীক্ষা করার পর আমি জানতে পারি আমার ডান কানের ৮০-৯০ শতাংশ শোনার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গিয়েছে।” এখন আমি মুম্বইয়ের হিন্দুজা হাসপাতালের বিখ্যাত নিউরোসার্জেন ডাক্তার বিকে মিশ্রার তত্ত্বাবধানে রয়েছি।” সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান কানে কোনও সমস্যা নেই আমার। বরং কান থেকে যে স্নায়ু মস্তিষ্কে গিয়েছে, সেখানে একটি টিউমার হয়েছে। দশ বছর বেঁচে থাকব আমি।” এখানেই শেষ নয়। চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন কোনওরকম কাটাছেঁড়া করাও বিপজ্জনক। অপারেশন সফল না হলে বদলে যেতে পারে মুখের আকৃতি। এমনকী চিরতরে শ্রবণশক্তি হারাতে পারেন আনন্দ।

আনন্দের মতে হৃতিক ছাড়া আর কোনও অভিনেতা তাঁর চরিত্রটি পর্দায় সঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারতেন না। “আমি ১৩ বার স্ক্রিপ্ট পড়েছিলাম। কারণ আমি চেয়েছিলাম আমার যাত্রাটা ঠিকভাবে ছবিতে দেখানো হোক।” হৃতিকের সম্বন্ধে তিনি বলেন, “উনি একজন খুব বড় মাপের অভিনেতা। আমারা প্রতিদিনই স্ক্রিপ্ট নিয়ে আলোচনা করতাম। আমার মনে আছে তিনি ১৫০ ঘন্টার একটি ভিডিয়ো বানিয়েছিলেন। আমার রোজকার জীবন, পাটনায় মানুষের সঙ্গে আমি কীভাবে কথা বলি, আমার ছাত্রদের নিয়ে বাইরে বেরোনো এইসব নিয়ে। সেটা দেখে তিনি অনুশীলন করতেন।

‘সুপার ৩০’ ছবিটি গণিতজ্ঞ আনন্দ কুমারের জীবন নিয়ে তৈরি। তিনি ধনী ছাত্রদের পড়ানো ছেড়ে দিয়েছিলেন গরীব ছাত্রদের পড়াবেন বলে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন বিকাশ বহেল।

 

Spread the love