জেলা প্রথম পাতা রাজ্যের খবর

কেয়ারটেকার আছে, কিন্তু কেয়ার নেই! চিৎকার করেও হাসপাতালে বন্দি থাকতে হল অসুস্থ রোগীকে

নিজস্ব প্রতিনিধি: কেয়ারটেকারের কেয়ার নেই, ফলে হাসপাতালে বর্হিবিভাগে রাতভর আটকে জ্ঞানহীন অসুস্থ রোগী। মধ্য রাতে আটকে পড়া অসুস্থ রুগীর হাজার ডাকাডাকিতেও দেখা মেলেনি জেলা হাসপাতালের কর্মীদের। অবশেষে শনিবার সকালে ঝাড়ুদারের সর্তকতায় বন্দী দশা থেকে মিলল মুক্তি, সেই সঙ্গে দিনভর অভুক্ত থাকা অসুস্থ রুগীর পেটে পড়ল আহার। এই ঘটনাটি বালুরঘাটের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা হাসাপাতালের বর্হিবিভাগের। জানা গেছে শুক্রবার সকালে নিবারণ মন্ডল নামের এক অসুস্থ বৃদ্ধ বালুঘাটের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখাতে আসে।

বৃদ্ধ নিবারণ মন্ডল-এর বক্তব্য এরপর তিনি জ্ঞান হারিয়ে জেলা হাসপাতালে বর্হিবিভাগের ভবনের ভিতরেই শুয়ে ছিলেন। কিন্তু মধ্য রাত্রে জ্ঞান ফিরতেই চক্ষু চড়ক গাছ। বুঝতে পারেন হাসপাতালের বহির্বিভাগের গেট বন্ধ। এরপর বর্হিবিভাগের ভবন থেকে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টায় জানালার গ্রিলের ভিতর থেকে হাসপাতালের কেয়ারটেকারদের ডাকার হাজারো চেষ্টা। যদিও কোন কেয়ারটেকার-ই ছিল ঐ সময়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগের বাইরে এমনটাই বক্তব্য বৃদ্ধ নিবারণ মন্ডল-র। ফলে অগত্যা দিনভর অভুক্ত অবস্থাতেই জেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগের ভবনে আটকে থাকেন ঐ অসুস্থ বৃদ্ধ। এরপর শনিবার সকালে এক ঝাড়ুদার লক্ষ্য করেন হাসপাতালের বহির্বিভাগের ভবনের ভিতরে আটকে রয়েছে ঐ বৃদ্ধ। বিষয়টি নজরে আসতেই ঐ ঝাড়ুদার হাসপাতালের বহির্বিভাগের ভবন থেকে বের করে আনেন ঐ অসুস্থ বৃদ্ধকে। সেই সঙ্গে স্থানীয় একটি দোকানে দিনভর অভুক্ত থাকা অসুস্থ বৃদ্ধের খাবারেরও ব্যবস্থা করেন তিনি। শনিবার সকালে এই ঘটনা চাউড় হতেই জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষরা। সাধারণ মানুষদের বক্তব্য হাসপাতালের কর্মীরা ডিউটি করছে কিনা তা দেখার দায়িত্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। অপরদিকে আটকে পড়া অসুস্থ বৃদ্ধের পরিবারের সদস্য ঘটনায় অভিযোগ তুলেছেন হাসপাতালের কেয়ারটেকারের বিরুদ্ধে। তার অভিযোগ কেয়ারটেকারের কেয়ার-ই নেই। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন কোন বাচ্চা যদি আটকে থাকত তাহলে কি অবস্থাটা হত বা বৃদ্ধ মানুষটির যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে যেত তাহলে কি হত বলে। ঘটনা প্রসঙ্গে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা হাসপাতালের সুপার ডাঃ তপন বিশ্বাস-এর বক্তব্য জানতে তার সাথে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে কিন্তু বারবার সেই ফোনটি সম্ভবত একজন শিশু রিসিভ করায় এবং খবর লেখার সময় পর্যন্ত  তার সাথে যোগাযোগ না হওয়ায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্নের মুখে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা হাসপাতাল পরিচালনার দায়িত্ববোধ।

Spread the love