কলকাতা জেলা প্রথম পাতা

‘থিম সং’ গাওয়ায় বাবুলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানাল তৃণমূল! কমিশন শোকজ করল বাবুলকে

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্য বিজেপির নির্বাচনী ‘থিম সং’ নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জমা পড়ল। ওই গানে তৃণমূল এবং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসম্মান করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

রবিবার মুম্বইয়ে গানটি রেকর্ড করেছেন আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। ‘এই তৃণমূল আর নয়’ শীর্ষক গানটির একটা বড় অংশ বাবুলের লেখা। সুর, সম্পাদনা, সংমিশ্রণ— সবই তাঁর নিজের। সোমবার সেই গান সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে আসে। মঙ্গলবার সকালে পশ্চিম বর্ধমান স্টুডেন্টস লাইব্রেরি কোঅর্ডিনেশন কমিটি নামে একটি সংগঠন আসানসোল দক্ষিণ থানায় অভিযোগ দায়ের করে।তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিরোধীদের বিভিন্ন স্লোগানকে একত্রিত করে একটি থিম সং বানিয়েছেন বাবুল সুপ্রিয়। এখন থিম সংটি শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পাওয়ার অপেক্ষা। গানে বলা হয়েছে, রাজ্যে ‘সিন্ডিকেট রাজ’, ‘চপ শিল্প’ ছাড়া কোনও শিল্প আসেনি। পুলিস আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে গিয়ে টেবিলের নিচে মাথা লুকোয়-গানের লাইনে তুলে ধরা হয়েছে এই চিত্র। গানে বলা হয়েছে, ‘ফুটবে এবার পদ্মফুল, আর নয় তৃণমূল….।’সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “গোটা গানে তৃণমূল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে কুৎসা ছড়ানো হয়েছে। অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “বাবুল নিজে এক জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, সাংবিধানিক পদে রয়েছেন। তিনি কী ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে এমন অসম্মানজনক শব্দ তাঁর গানে ব্যবহার করলেন?” অভিযোগপত্রের সঙ্গে বাবুলের গানের একটি সিডি পুলিশকে দিয়ে তিনি অনুরোধ করেন, অবিলম্বে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।আসানসোল-দুর্গাপুর পুলি‌শ কমিশনারেটের এক শীর্ষ কর্তা এ বিষয়ে বলেন, ‘‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

বাবুলের পাল্টা দাবি, ‘‘সত্যি কথা খুব গায়ে লাগে, তাই তৃণমূলের গায়ে লেগেছে।’’ বামেরাও অভিযোগ তুলেছে, তাদের স্লোগান ‘চুরি’ করে ওই গান লেখা হয়েছে। সে প্রসঙ্গ তুলে বাবুল বলছেন, ‘‘ঠিকই বলছেন ওঁরা। বাংলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মাঠে-ময়দানে যে সব কথা বলেছে, গায়ক বাবুল সেগুলোকে একত্র করে সুরে বেঁধেছে।’’ 

জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের কোন অনুমতি ছাড়াই বাবুলের এই থিম সং নজর এড়িয়ে যায় নি কমিশন কর্তাদের। বাবুলকে শোকজ করল নির্বাচন কমিশন।আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে বাবুল সুপ্রিয়কে জবাবদিহি করতে হবে নির্বাচন কমিশনের কাছে।

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।