প্রথম পাতা বিনোদন

‘দ্য শো মাস্ট গো অন’। মাত্র ছ’হাজার টাকার নিরাপত্তারক্ষীর জীবন বেছে নিয়েছেন চিত্রপরিচালক!

নিজস্ব প্রতিনিধি : আচ্ছা যদি জীবনটা সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো হত? তাহলে কেমন হত? কখনও কি ভেবে দেখেছেন ঠিক কেমন হত? জীবনে ভালো মত থাকার স্বপ্ন তো সবাই দেখে। কিন্তু ভাগ্যচক্রে যদি ঠিক তার উলটোটা হযে দাঁড়ায়? ঠিক আছে মনে করুন, আপনি স্বপ্নে দেখেন বিলাসবহুল জীবনের যদি হঠাৎ তা দুঃখ, রাগ, অভিমানও ভরে যাই? স্বাভাবিক তবুও আমাদের চলে যেতে হবে। নিজেদের জীবন নিজেদের মতো করে গড়ে নিতে হবে। তবে থেমে গেলে হবে না। টুকরো টুকরো শব্দ সঞ্চয়ে তা জোড়া লাগিয়ে একটা বাক্য দাঁড় করানোর মতো নিজস্ব অভিজ্ঞতায় জীবনের সংজ্ঞা লিখতে পারাটাও কিন্তু বেশ চ্যালেঞ্জিং। ঠিক এরকমভাবেই নিজের মতো করে নিজের জীবনের সংজ্ঞা লিখে চলেছেন এক পরিচালক। একটু খুলে বলা যাক!

টলিউডে অনেকেই চেনেন ৬২ বছরের সুব্রতরঞ্জন কিংবদন্তি পরিচালক ঋত্বিক ঘটকের ‘যুক্তি তক্কো গপ্পো’য় শিক্ষানবীশ হিসেবে কাজও করেছেন। সুব্রতবাবু আটের দশকে বহু ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। মুম্বইয়ের নামী প্রযোজনা সংস্থাতেও কাজ করতে গিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও তাঁকে জেনে এই ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যেতে হয়েছে। একটা সময়ের টলিউডের পরিচিত পরিচালক এখন মাত্র সাড়ে ছ’হাজার টাকায় নিরাপত্তাকর্মীর জীবন বেচে নিয়েছে।

হাতে কাজ নেই তাই পেটের দায়ে নিরাপত্তারক্ষীর বেশে দাঁড়াতে হয়েছে আবাসনের গেটের সামনে। বেশ ক’টা ছবি করেছেন। নন্দনে মুক্তি পেয়েছিল তাঁর করা ‘প্রবাহিনী’ নামের ছবিটি। আস্তাকুড়ে ঘেঁটে শিশি-বোতল কুড়ানো মেয়েদের রোজনামচাও আবার ঠাঁই পেয়েছে তাঁর ভাবনায়, তাঁর ফ্রেমে। সেই ছবির নাম ‘কলি’। তবে তা মুক্তি পায়নি। হাতে পয়সা নেই।

সুব্রতবাবুর কথায়, ‘‘সময় পেলেই নতুন চিত্রনাট্যের খসড়া তৈরি করার চেষ্টা করি এখনও। তবে সময় বার করাটাই কঠিন।” “স্ত্রী, মেয়েকে নিয়ে সংসার। চলতে তো হবেই। বেশ কয়েক বছর বসে রয়েছি। শেষ এই কাজেই ঢুকে গেলাম। কোনও কাজই ছোট নয়।”ভিআইপি রোডের একটি আবাসনে ১২ ঘণ্টার নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করেই সময় চলে যায়। তা সত্ত্বেও নতুন কাজের আশায় সারা রাত ডিউটির পরেও সকালে ছোটেন টলিপাড়ায়। ফিরে এসে আবারও আবাসনের গেটের সামনে রাত পাহারার কাজে যোগ দেন পলতার বাসিন্দা সুব্রতবাবু।

এক জন চিত্র পরিচালকের দিন কাটবে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করে—মানতে পারেন না অনেকেই। পরিচালক রাজা সেন বলেন, ‘‘সুব্রত নতুন ভাবনা নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেন। ওঁর নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করাটা একেবারেই মানা যায় না।’’

তবে হাল ছাড়েননি সুব্রতবাবু। তাঁর কথায়, ‘‘জীবন সিনেমার চিত্রনাট্যের মতোই গতিশীল। ভাল কাজের সুযোগ নিশ্চয়ই পাব। চেষ্টা তো চালাতেই হবে।’ সিনেমারই তো কথা আছে, ‘দ্য শো মাস্ট গো অন’

Spread the love