জেলা প্রথম পাতা লগডাউন

লকডাউনে রমজান পালনে বিধি বলবৎ তারকেশ্বরে ।

পার্থ সামন্ত, তারকেশ্বর: মাহে রমজানে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্তের নামাজে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও সাথে তিন জন ছাড়া কেউ অংশ নিতে পারবেন না। শুধু তারাই মসজিদের নামাজে অংশ নেবেন। সবাইকে মাস্ক বা রুমালে নাক মুখ ঢেকে ও সামাজিক দূরত্ব মেনে মসজিদে নামাজ পড়তে হবে। বাকিদের নামাজ আদায় বাড়িতেই করতে হবে।

হুগলী জেলার তারকেশ্বরে সেই নিয়েই হয়েছে প্রচার। স্থানীয় বাগবাড়ী মসজিদের মতোয়াললি আবুল হোসেন সাহেব জানালেন সে কথা। তিনি বলেন আমরা সরকারি নির্দেশ মতোই চলছি। সব রকমের জমায়েত আমরা বন্ধ রেখেছি। মসজিদের তরফে মাইকে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে প্রচার করছি। আমরাও চাই সকলে এই সময় বাড়িতে থাকুন। বাড়িতে বসেই পবিত্র রমজানের নামাজ আদায় করুন।

স্থানীয় হাসান লস্কর বললেন সরকারি নিয়ম মেনেই চলব। নিয়ম না মানলে করোনার সংক্রমণ আটকানো যাবে না। বাড়িতে বসে রমজানের নামাজ পড়ে সকলে সুস্থ থাকুক। এলাকার আলু ব্যবসায়ী আজিজুল সরকার ও নিয়ম মানার পক্ষে। তিনি বলেন করোনা একবার ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টকর। সরকারি নিয়ম মেনে আমরা বাড়িতেই রোজার নামাজ পড়বো। কোন ইফতার পার্টিও এ বছর হবে না। আর তাতেই আমাদের সকলের ভালো।

করোনার প্রভাব আটকাতে রমজান পালনে কয়েকটি নিয়ম পালনের সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে মাদ্রাসা বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিষয়ক দপ্তরের সচিব এবং মুখ্য নির্বাহী আধিকারিক, ওয়াকফ বোর্ড। যার কপি প্রতিটি পঞ্চায়েতে ই-মেইল করা হয়েছে। এই কপি এলাকার প্রতিটি মসজিদের ইমামের কাছে পৌঁছে দিয়েছে পঞ্চায়েত।

এছাড়াও পঞ্চায়েত গুলিতে পাঠানো হয়েছে একটি অনুরোধ মূলক অডিও ক্লিপিং। যেটি প্রতিটি পঞ্চায়েতের উপযুক্ত এলাকায় মাইকিং করতে বলা হয়েছে। রমজান পালনকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যই এই মাইকিং।

প্রতিদিন এক জন মুসলিমকে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হয়। প্রথম ওয়াক্ত হল “ফজর ওয়াক্ত” যার সময়কাল প্রথম ভোর থেকে সূর্য ওঠার আগে পর্যন্ত। তারপর “যুহর ওয়াক্ত” যার সময়কাল দুপুর থেকে “আসর ওয়াক্ত”-এর আগে পর্যন্ত। তৃতীয় ওয়াক্ত “আসর ওয়াক্ত” যা সূর্যাস্তের আগে পর্যন্ত পড়া যায়। চতুর্থ ওয়াক্ত হচ্ছে “মাগরিব ওয়াক্ত” যার সময়কাল সূর্যাস্ত থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত “মাগরিব ওয়াক্ত” এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর আরম্ভ হয় “ইশা ওয়াক্ত” এবং এর ব্যপ্তি প্রায় “ফজর ওয়াক্ত”-এর আগে পর্যন্ত। এই “ইশা ওয়াক্ত” এর নামাজকে রমজান মাসে তারাবির নামাজ বলা হয়। আর রমজানে বেশিরভাগ রমজান পালনকারী তারাবির নামাজ মসজিদে পড়েন।

করোনা রুখতে তারকেশ্বরের রমজান পালনকারীরা চাইছেন সরকারি নিয়মেই হবে পবিত্র রমজান পালন। তারকেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ফিরদৌস পারভীন নিজেও রমজান পালন করছেন । তিনি জানান এলাকায় সব মসজিদের ইমাম সাহেবরা সরকারি নিয়ম মেনেই রমজান পালন করবেন। কোথায় কোন জমায়েত হবেনা। তিনি বললেন সকলে বাড়িতে থাকুন, সরকারি নিয়ম মানুন তাহলেই আমরা করোনা দূর করতে পারবো।

Spread the love