জেলা প্রথম পাতা

পুলিশকে জেল খাটানোর ‘হুঁশিয়ারি’ দিলেন প্রাক্তন পুলিশ সুপার

নিজস্ব প্রতিনিধি— লোকসভা ভোট শেষ হয়ে গেলেও এখনও উত্তেজনার আঁচ এতটুকু কমেনি কেশপুরে। শাসক-বিরোধী দ্বন্দ্বে প্রায় প্রতিদিনই সংঘর্ষ ঘটছে। কেউ কাউকে একটুকরো জমি ছাড়তে নারাজ। কিছুদিন আগে এই কেশপুরে এসে পুলিশকে কার্যত হুমকি দিয়েছিলেন বিজেপি নেত্রী তথা জেলার প্রাক্তন পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ। এবার সেই পুলিশকে জেল খাটানোরও হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। সে দিন ভারতীকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘‘নতুন পুলিশ সুপার আসার পরে যে কেশপুর রিকভারি প্ল্যান বানিয়েছেন, আমরা তা জানি। জেলার পুলিশ সুপারকে বলে যাচ্ছি, আপনার প্ল্যান- প্রোগ্রাম আমরা জেনে গিয়েছি। আপনাদের যেমন সিআইডি রয়েছে, আমাদের তেমন সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স রয়েছে।’’ সুর আরও চড়িয়ে এ দিন তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘আমরা সব জানি। প্রতিটি জিনিস নজরে রাখছি। আইপিএস থেকে কনস্টেবল—ভাল করে শুনুন, আমরা হিসেব ঠিক চুকিয়ে দেব। আমরা ক্ষমতায় এসে আপনাদের নামে কেস দিয়ে ঠিক ওখানেই (জেলে) পাঠাব, যেখানে আমাদের কর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে আপনারা পাঠাচ্ছেন।’’

সপ্তাহ খানেক আগে কেশপুরে এসে পদযাত্রা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলের সেই পদযাত্রা শুরু হয়েছিল সরুই থেকে। পদযাত্রা শেষে কেশপুর বাসস্ট্যান্ডে সভা হয়। মঙ্গলবার বিজেপির মিছিল শুরু হয় বারো মাইল থেকে। মিছিল শেষে সেই কেশপুর বাসস্ট্যান্ডেই সভা হয়েছে। সভায় ভারতীকে বলতে শোনা যায়, ‘‘এখানে মাঝে মাঝে একজন নায়ক (দেব) আসেন। নায়ক এসে অভিনয় করেন। ভাল ভাল কথা বলেন। মানুষ কি বোঝে না? মানুষ কি বোকা? কেশপুরকে আর ঠকানো যাবে না।’’ পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘৭ জুলাই যখন মহানায়ক (শুভেন্দু) এখানে আসেন, আমাদের সব পতাকা পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে পরে আমাদের দলের কয়েকজন কর্মী আক্রান্তও হন।’’ এদিনের কর্মসূচিতে ভারতী ছাড়াও বিজেপির কর্মসূচিতে ছিলেন দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু। তিনিও পুলিশকে একহাত নেন। পুলিশ- প্রশাসন তৃণমূলের হয়ে কাজ করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘‘এখানকার পুলিশের ওসিকে বলছি, দাদা, আর কত বছর চাকরি করবেন? দিদিমণি তো আর এক বছর আছেন। তারপর তো বিজেপি সরকারের আমলে চাকরি করতে হবে।’’ ঘটনাচক্রে ক’দিন আগেই কেশপুর থানার ওসি- র বদলি হয়েছে। প্রশান্ত কীর্তনিয়ার জায়গায় নতুন ওসি হয়েছেন বিশ্বরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি খড়্গপুর লোকাল থানার ওসি ছিলেন। প্রশান্তকে খড়্গপুর টাউন থানায় পাঠানো হয়েছে।

Spread the love