জেলা প্রথম পাতা

রাজ্য বিজেপির পুরোনো নেতারা কোনঠাসা, ক্ষোভের আগুন বিস্ফোরনের অপেক্ষায়

নিজস্ব প্রতিনিধি : ট্রেলার শেষ হয়েছে। এখন বঙ্গ-বিজেপির ঘোষণা অনুসারে সিনেমা দেখানোর পালা। ফলে অন্য দল থেকে নেতা ভাঙানোর প্রক্রিয়া চলছেই। আজ, সোমবারও নাকি দিল্লি এই ‘সিনেমা’ দেখাবেন বিজয়বর্গীয়-মুকুল রায় জুটি।

এদিকে দোরগড়ায় ভোট। 11 এপ্রিল ভোট হবে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রে। দলীয় প্রার্থীর নাম ওখানকার নেতা-কর্মীরা এখনও জানেননা। দ্বিতীয়, তৃতীয় দফার ভোট যথাক্রমে 18 এবং 23 এপ্রিল। ওই দুই দফায় ভোট হবে মোট 8 কেন্দ্রে। সেখানেও অনিশ্চিত প্রার্থীর নাম। পরিবর্তে, বিজেপি এখন ব্যস্ত অন্য দল ভাঙ্গানোর খেলায়।
দলীয় নেতাদের একাংশের এ ধরনের কাজে ক্ষুব্ধ দলের জেলাস্তরের নেতা-কর্মীরা। শুধু তাই-ই নয়,প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়টি নিয়ে দলের অভ্যন্তরে তীব্র কোন্দল শুরু হয়ে গিয়েছে। ভোটের মুখে অন্য রাজনৈতিক দলগুলি থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়াচ্ছেন কিংবা যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন একাধিক প্রভাবশালী নেতা ৷ দিল্লিতে দলের সদর দফতরে এ রাজ্যের নতুন নেতাদের দলে অবাধে স্বাগত জানানো হচ্ছে ৷ মিনিটে মিনিটে গুজব রটছে, তৃণমূল বা অন্য দল থেকে অমুক অমুক নেতা গেরুয়া শিবিরে সামিল হচ্ছেন। দলের 2-3জন নেতা বলেই চলেছেন, ধামাকা-দার নেতা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছে। দলবদলে এসব নাকি ট্রেলার, আসল সিনেমা শুরুই হয়নি।
দিল্লিতে বসে অন্য দলের নানা সাইজের নেতাদের বিজেপিতে সামিল করানোর কাজকে একদমই মানতে পারছেন না বিজেপির জেলাস্তরের নেতা-কর্মীরা। দলের শীর্ষস্তরের জনাকয়েক নেতার এ ধরনের কাজ দেখে জেলাস্তরে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।
প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি দলের পুরনো নেতারা লোকসভা নির্বাচনের টিকিট পাবেন না ? অন্য দল থেকে আসা লোকজনকেই সব টিকিট দেওয়া হবে? তাহলে এতদিন ধরে নানা নির্যাতন সহ্য করে দলের পতাকা যারা জেলায় জেলায় তুলে ধরলেন, তাঁরা ঢালাওভাবেই বাদ ? জেলা নেতৃত্বের অনেকেরই প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা এইসব সদ্য দলে যোগ দেওয়া নেতাদের থেকে অনেক বেশি। তবুও তাঁদের ছাঁটা হচ্ছে পরিকল্পিত ভাবেই। বিজেপির জেলাস্তরের নেতা-কর্মীদের কথা, ঢালাওভাবে অন্যদলের যে সব লোকজনকে আনা হচ্ছে, এদের প্রত্যেকেই রাজ্যে বিজেপির নেতাদের থেকে বড়, যোগ্য, অভিজ্ঞ, এমন ধারনা কেন হচ্ছে ?
এদিকে আরও এক ‘সঙ্কট’ রাজ্য বিজেপির অন্দরে।দিল্লি বিজেপি নাকি জানিয়েছে, রাজ্য কমিটির সাধারন সম্পাদকরা নির্বাচনে প্র্রার্থী হতে পারবেন না। তাঁরা দেখভাল করবেন সামগ্রিক ভোটের কাজ। এই নির্দেশের ফলে দলের একাধিক সাধারন সম্পাদক, যাদের এবার প্রার্থী হওয়ার কথা, তাঁরা হতাশ। তাঁদের বক্তব্য, এমনিতেই পুরনো নেতা-কর্মীরা নবাগতদের চাপে কোনঠাসা। তার ওপর যদি পুরোনো নেতাদের প্রার্থী হওয়ার অধিকারও কেড়ে নিয়ে নব্য-বাহিনীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তাহলে এতদিন ধরে দলটা যারা বাঁচিয়ে রাখলো, তাঁদের অসম্মানই করা হচ্ছে। রাজ্য বিজেপির মাথায় এখন গোষ্ঠী-কোন্দলের কালো মেঘ, যে কোনও মুহূর্তে ভাসিয়ে দিতের পারে।

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।