প্রথম পাতা রাজ্যের খবর লাইফ স্টাইল

বিগত বছরগুলোর রেকর্ড ভেঙে সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বাড়লো মোট ৮ টি।

বছরগুলোর রেকর্ড ভেঙে সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বাড়লো মোট ৮ টি। সব মিলিয়ে এবছর বাঘের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে মোট ৯৬। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ৮৮। বুধবার দুপুরে সল্টলেকে সাংবাদিক বৈঠক করে জানালো বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়,তার পাশাপাশি এই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্য মন্ত্রী সুজিত বসু ও উচ্চ আধিকারিকরা.
এদিন বনমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রথমত সুন্দরবনের বাঘের বংশবৃদ্ধির জন্য আগের চেয়ে উপকূল পরিস্থিতির উদ্ভব হওয়া এবং একই সঙ্গে বাঘের চোরাচালানের সংখ্যা কমায় এই চমকপ্রদ পরিসংখ্যান মিলেছে। এছাড়াও তিনি জানিয়েছেন, তথ্য অনুযায়ী আপাতত সমস্ত বাঘ সুস্থ রয়েছে এবং জঙ্গলের এই বাঘেদের মধ্যে করোনার কোনও প্রভাব নেই। এছাড়াও সুন্দরবনের পর্যটনকে আরও উন্নত করার জন্য ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে। তাই করোনা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হলে আরও বেশি সংখ্যক পর্যটকদের সেখানে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দেন, এই পরিসংখ্যান শুধুমাত্র সুন্দরবন এলাকার। করোনা পরিস্থিতির জন্য আপাতত উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণী সম্পর্কে আলাদা করে কোনও তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেই পরিসংখ্যানও মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে।

পাশাপাশি তিনি আরও তথ্য প্রকাশ করে বলেন, সুন্দরবনে এখন বাঘের থেকে বাঘিনীর সংখ্যাই বেশি। তথ্য অনুযায়ী এখানে বাঘের সংখ্যা মোট ২৩ টি এবং বাঘিনীর সংখ্যা ৪৩ টি। তবে এসবের মধ্যে খুদে বাঘের সংখ্যা মোট ১১ টি। সব মিলিয়ে ২০১৯-২০ পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিগত বছরের তুলনায় মোট ৮ টি বাঘ বেড়ে সংখ্যাটা ৯৬ তে এসে পৌঁছেছে। এখনও পর্যন্ত বিগত বছর গুলিতে পরিসংখ্যান অনুযায়ী সর্বাধিক ৭ টি বাঘ বাড়ার রেকর্ড ছিল। যে রেকর্ডটি এবছর ভেঙে গিয়েছে। সব ঠিক থাকলে আগামী বছর এই সংখ্যাটা ১০ এরও বেশি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে বনদপ্তরের রাষ্ট মন্ত্রী সুজিত বসু মনে করিয়ে দেন সেইসব সাহসী বনকর্মীদের কথা যারা নিজেদের জীবন বাজি রেখে এই বাঘ গণনায় নিয়োজিত হয়েছেন। তিনি জানান, এই কাজের জন্য ১০,১২ জন বনকর্মী মিলে জঙ্গলের ভেতরে প্রায় ১২০০ টি ক্যামেরা মোতায়েন করেছিলেন। যা মোটেই সহজ কাজ নয়। এই কাজ করতে গিয়ে একাধিকবার বনকর্মীদের প্রাণহানীর মত ঘটনাও ঘটেছে। তাই তাদের প্রত্যেকের সাহসিকতাকে এদিন কুর্নিশ জানান তিনি।
উল্লেখ্য, জাতীয় ব্রাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ(এনটিসিএ) এর নিয়ম অনুযায়ী ২০১০ সালে প্রথম সুন্দরবনে সর্বভারতীয় ব্রাঘ্র পরিগণনার অনুশীলন শুরু হয়। ২০১২ থেকে কিছু এনজিও এর সহযোগিতায় ও এনটিসিএ এর নির্দেশিকা অনুযায়ী বন দফতর চতুর্থ পর্যায়ে ব্রাঘ্র পরিগণনার অনুশীলন চালাতে থাকে। বিগত দুই বছর ধরে বন দফতর বাইরের প্রতিষ্ঠান থেকে কেবল মাত্র যন্ত্র এবং কাঠামোগত (ফাঁদ, ক্যামেরা ও প্রশিক্ষণ) সহযোগিতাটুকু নিয়ে স্বনির্ভর ভাবে এই ফাঁদ ক্যামেরা পাতার মাধ্যমে বাঘ পর্যবেক্ষনের কাজ করে চলেছে।

Spread the love