দেশ প্রথম পাতা

রাজ্যের নাম বাংলা চাই, নিজেদের দাবি নিয়ে মোদির সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূলের ১২ সাংসদ

নিজস্ব প্রতিনিধি : বাংলার নাম পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন বাংলার তৃণমূলের সাংসদরা৷ অধিবেশন চলাকালীন সংসদেই তাঁদের সময় দেন মোদী। বৃহস্পতিবার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, সুখেন্দুশেখর রায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র সহ তৃণমূল সাংসদরা দেখা করেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। দাবি জানান সংবিধান সংশোধনের। সেখানে চলতি অধিবেশনে বাংলা নাম পরিবর্তনের বিষয়টি তোলার জন্য মোদির কাছে গিয়ে আর্জি জানান বাংলার সাংসদরা৷

রাজ্যের নাম পরিবর্তন আর্জি জানিয়ে তৃণমূল সরকার বহুবার কেন্দ্রকে চিঠি দিয়েছিল৷ কয়েকদিন আগে দেশের স্বরাষ্টমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছিলেন নাম পরিবর্তন নিয়ে কেন্দ্রের আপত্তি রয়েছে৷ তারপর বুধবার দিল্লিতে রাজ্যের নাম পরিবর্তন নিয়ে তৃণমূল সাংসদরা প্রধানমন্ত্রীর দারস্থ হন৷

সূত্রের খবর, তৃণমূলের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, রাজ্য বিধানসভায় বাংলার নাম পরিবর্তন সর্বসম্মতিতে পাশ হয়েছে। অথচ সেটি নিয়ে গড়মসি করছে কেন্দ্রীয় সরকার। আপনি বিষয়টি দেখুন। প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল সাংসদদের কথা মন দিয়ে শুনেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাসও দেন।

গত ৩ জুলাই রাজ্যসভায় রাজ্যের নাম সংক্রান্ত ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছিলেন নির্দল সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। জানতে চেয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকার কি বাংলা নামে অনুমোদন দিয়েছে? যদি না দিয়ে থাকে তাহলে কেন তা দেওয়া হয়নি? তা বিস্তারিত জানতে চান ঋতব্রত। কিন্তু কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই জানান, এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা কোনও অনুমোদন দেয়নি। যে হেতু অনুমোদন দেয়নি, সে হেতু এর মধ্যে বিস্তারিত কিছু জানানোর অবকাশ নেই।

ওই দিন বিকেলেই মোদীকে চিঠি লেখেন মমতা। চিঠিতে ১১ সাল থেকে ১৮ সাল পর্যন্ত ঘটনাক্রমের উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০১১ সালের ১৯ অগস্ট অর্থাৎ মমতা সরকারের বয়স তখন মাত্র তিন মাস, সেই সময়ে একটি সর্বদলীয় সভা হয়। সেখানে ঠিক হয় ইংরাজি এবং বাংলা দুটি ভাষাতেই রাজ্যের নাম হবে পশ্চিমবঙ্গ। ২ সেপ্টম্বর ওই বিল পাশ করা হয় রাজ্য বিধানসভায়। পাঠিয়ে দেওয়া হয় দিল্লিকে। ২০১২ সালের অক্টোবরের শুরুতে দিল্লি জানায় এ ব্যাপারে কোনও অগ্রগতি হয়নি। প্রসঙ্গত এই সময়ে কেন্দ্রে দ্বিতীয় ইউপিএ সরকার চলছিল। ২০১৬ সালের ২৯ অগস্ট রাজ্য বিধানসভায় সংশোধনী পাশ হয়।

 

 

 

 

Spread the love