কলকাতা প্রথম পাতা

ছিলেন মন্ত্রী হলেন হ্যারি পটারের বন্ধু। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে করা মিম উপভোগই করছেন মদন মিত্র

প্রশান্ত দাস

তিনি ছিলেন একসময়ের দাপুটে তৃণমূল নেতা। তবে কালের নিয়মে তিনি পিছনের সাড়িতে চলে গেলও তাঁর দর যে এতটুকু কমেনি তা সোশ্যাল মিডিয়ায় খুলেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। তিনি মদন মিত্র। ফেসবুক খুললেই এখন তাঁকে নিয়ে অদ্ভুত সব মিম ভেসে উঠছে নিউজফিডে। কখন তিনি হ্যারি পটারের বন্ধু আবার কখন হিটলারের উচ্চপদস্থ অফিসারদের মাঝে তিনি। আর তাঁকে নিয়ে করা এই অদ্ভুত সব মিমে তিনি মোটেই বিরক্ত নয়। বরং বেশ উপভোগই করছে রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহন মন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, গত ২০ মার্চ বুধবার হঠাৎই ফেসবুকে আচমকাই ভেসে ওঠে একটা পেজ: মদন মিত্র অ্যাট আনইউজুয়াল প্লেসেস— উই লাভ মদন স্যর। পেজে দেখা যাচ্ছে মদনবাবু কখনও হ্যারি পটার ও তার বন্ধুদের মধ্য দিয়ে উঁকি মারছেন, কখনও আবার ব্যাট ধরেছেন চাঁদের মাটিতে নীল আর্মস্ট্রংয়ের পাশে। দেশ, কাল সীমানার গণ্ডি পেরিয়ে প্রাক্তন পরিবহণ মন্ত্রীকে কখনও দেখা যাচ্ছে হিটলারের উচ্চপদস্থ অফিসারদের মাঝে, আবার কখনও তিনি আমেরিকার রাস্তায় ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী মিছিলে সামিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে রুজভেল্টের পাশে তিনি, আবার কৃষ্ণেন্দুর বদলে রিনা ব্রাউনকে সঙ্গে নিয়ে তিনিই বাইকের চালকের আসনে। বার্লিনের প্রাচীর ভাঙার তদারকিতে তিনি, আবার আছেন সেক্রেড গেমসের পোস্টারেও। স্পাইডারম্যান, টাইটানিকের জ্যাক, ব্রুস লি— সব চরিত্রে ধরা দিয়েছেন মদন মিত্র তাঁর ফ্ল্যামবয়েন্ট ইমেজে।

রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহন মন্ত্রীর নামে পেজটি এতটাই জনপ্রিয় হয়েছে যে এই ছয় দিনেই পেজের ফলোয়ার সংখ্যা নয় নয় করে ১৭ হাজার ছঁই ছুঁই। গড়ে দিন প্রতি প্রায় আড়াই হাজার করে বাড়ছে লাইক ও ফলোয়ারের সংখ্যা। আর এই বিষয়টি বেশ স্পোর্টিংলিই নিয়েছেন মদনবাবু। তিনি জানান, যারা মজা করছ করো, কিন্ত এর জন্য তাঁকে যেন রাজনৈতিকভাবে কোনও বিড়ম্বনায় না পড়তে হয়। আর ফেসবুক পেজের অ্যাডমিনদের দাবি, তাঁরা কোনও দলের নন। তাঁরা আদ্যন্ত পেশাদার, এবং নিখাদ হাস্যরসের জোগান দিতেই মদন মিত্রকে নিয়ে এই মিমের উদ্যোগ। তবে কোনও রকম কুরুচিকর ছবি এই পেজে পোস্ট করার অনুমতি নেই। অ্যাডমিনদের আরও দাবি, স্বয়ং মদন মিত্র ও তাঁর ফেসবুক টিম নাকি এই ব্যাপারটাকে বেশ স্পোর্টিংলিই নিয়েছেন। এবিষয়েই মদন ঘনিষ্ঠ সুশান্ত দে ওরফে ঝন্টু জানায়, দাদার জনপ্রিয়তা যে এতটুকু কমেনি তাঁর প্রমানই এই ফেসবুক পেজ। তবে তাঁরও আবেদন অপ্রীতিকর কোন ঘটনা না ঘটে এই মিমি নিয়েই।

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।