দেশ প্রথম পাতা লগডাউন

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠকেই স্থির হবে লকডাউনের মেয়াদ বাড়বে কি !

আগামী ১১ মে বিকেল তিনটেয় সকল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই বৈঠকেই স্থির হবে আগামী ১৭ মে পর লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধি পাবে কিনা। দেশের তৃতীয় দফায় লকডাউনের মেয়াদ স্থির হয়েছে আগামী ১৭ মে পর্যন্ত। এরপর লকডাউন আরও দীর্ঘায়িত হবে কিনা, তা সোমবারের বৈঠকেই স্থির করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে দিল্লি, গুজরাট, মুম্বাইয়ে পরিস্থিতিতে এই সমস্ত এলাকায় লকডাুনের মেয়াদ আরও বাড়তে পারে। অথবা ওইসকল রাজ্যে হটস্পট স্থানগুলিতে লকডাউন চলবে। দেশে সংক্রমণ বাড়লেও প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে সুস্থতার হার।

এই মুহূর্তে ভারতে করোনা থেকে সুস্থতার হার ৩০.৭৬ শতাংশ। স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, গত ২০ দিন ধরে প্রতিদিন এই হার একটু একটু করে বেড়েছে। এই বৃদ্ধি যথেষ্ট ইতিবাচক বলেই জানিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। তবে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২৭৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন করোনাভাইরাসে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিন অনুযায়ী রবিবার, ১০ মে, সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬২৯৩৯। দেশে করোনা সংক্রামিত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২১০৯ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গিয়েছেন ১২৮ জন। একদিনে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৫১১ জন। ভারতে এখনও পর্যন্ত করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৯৩৫৮ জন। অর্থাৎ এই মুহূর্তে দেশে কোভিড পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৪১৪৭২।করোনা মোকাবিলায় ভবিষ্যৎ পন্থা কি হবে? দেশজোড়া লকডাউনের মেয়াদ কি আরও বাড়বে? নাকি পূর্বনির্ধারিত সময়েই শেষ করা হবে লকডাউন? দেশে করোনা-যুদ্ধ কিভাবে পরিচালিত করা হবে, কি ভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে হবে কোভিড-১৯ সংক্রমণকে? এইসব প্রশ্ন নিয়েই আগামিকাল, সোমবার সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, আগামিকাল দুপুর ৩টেয় রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক শুরু হবে। গত ২৫ মার্চ দেশ জুড়ে লকডাউন শুরু হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে এটি মোদীর পঞ্চম বৈঠক।
সূত্রের খবর, মূলত লকডাউন নিয়েই মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা সারবেন মোদী। আগামী ১৭ মার্চ চলতি লকডাউনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে। এর পর তার সময়সীমা বাড়ানো হবে, নাকি তা ধাপে ধাপে তোলা হবে, সে নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে আগামিকালের বৈঠকে। পাশাপাশি, করোনা-সংক্রমণ ঠেকাতে কেন্দ্রের নির্দেশিত লাল, কমলা এবং সবুজ এলাকার পরিবর্তে কনটেনমেন্ট জোন অনুযায়ী শিথিলতার মাত্রা বাড়ানো বা কমানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। কেন্দ্রের তরফে ইতিমধ্যেই স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, গোটা দেশে একধাক্কায় লকডাউন না সরিয়ে সংক্রমণের হার অনুযায়ী ধাপে ধাপে তা উঠানো হবে। এ ছাড়া, দেশের কোন কোন রাজ্যে অথবা এলাকায় লকডাউনের বিধিনিষেধের কড়াকড়ির মাত্রা কেমন হবে, তা নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। একাধিক রাজ্যের দাবি, রেড, অরেঞ্জ বা গ্রিন জোনের পরিবর্তে কনটেনমেন্ট এলাকা ধরে বিধিনিষেধের মাত্রা বাড়ানো বা কমানো হোক। অর্থাৎ,করোনা-সংক্রমণের হারের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হোক লকডাউনের বিধিনিষেধ। কারণ, কোনও কোনও রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকেরা নিজেদের বাড়িতে ফেরার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় করোনা-সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন রাজ্য সরকারগুলি। ফলে করোনা-সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে জটিলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামিকালের বৈঠকে পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রসঙ্গটিও আলোচ্য হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
লকডাউনের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ২০ এপ্রিল থেকে কৃষি, নির্মাণ-সহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে কেন্দ্র। পাশাপাশি রাজ্যগুলিও বেশ কিছু এলাকায় ছাড় ঘোষণা করেছে। তবে অর্থনীতিকে আরও সচল করতে আর কী কী পন্থা নেওয়া যেতে পারে, বৈঠকে আলোচনা হতে পারে তা নিয়েও। এ ছাড়া, ভিন্‌রাজ্যে আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয়টিও বৈঠকে প্রাধান্য পাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ভাইরাসকে এখনই সহজে নির্মূল করা যাবে না। ফলে সাবধানতা অবলম্বন করে কী উপায়ে করোনা-সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, সে পন্থা খুঁজে বার করতে হবে দেশের সরকারকে।
সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আগামিকালের ভিডিয়ো কনফারেন্সের আগে রবিবার একটি বৈঠক সেরে নিয়েছেন ক্যাবিনেটসচিব গৌরব গৌবা। দেশের সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যসচিব ও স্বাস্থ্যসচিবদের সঙ্গে এ দিন করোনা নিয়ে ভিডিয়ো কনফারেন্স করেন তিনি। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে জোন-ভিত্তিক এলাকা ভাগ নিয়ে আপত্তি তুলেছে বহু রাজ্য

Spread the love