জেলা প্রথম পাতা রাজ্যের খবর

সিঙ্গুরের জমিতে ফলেছে ধান-গম-ভুট্টা-আলু, বললেন কৃষিমন্ত্রী! তবে চাষের পরিমান কেন কমেছে তা জানেন না মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যে রাজনৈতিক পালা পরিবর্তনের মাটি যে সিঙ্গুর, তা কারুর অজানা নয়। বাম জামানার সময় থেকেই এই সিঙ্গুরের জমি আন্দোলন থেকেই রাজ্যের ক্ষমতার মসনদ দখল করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই রাজ্য রাজনীতির ক্ষেত্রে অন্যতম বড় নাম সিঙ্গুর। সব রাজনৈতিক দলের নজর থাকে সেদিকেই। তবে এবারের নির্বাচনে সিঙ্গুর থেকে হারতে হয়েছে তৃণমূল প্রার্থীকে। কিন্তু সেইসব সরিয়ে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। বিধানসভার অন্দরে বারবার বিধায়কদের মুখে আসে সিঙগুরের নাম। আর তা নিয়ে রীতিমত আজ শোরগোল পড়ে গেল বিধানসভার অধিবেশনে।প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, বামফ্রন্ট সরকার যে ভাবে শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করেছিল, তাতে প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ছিল। এরপর শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয়, জমি ফেরৎ দেওয়ার। ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয় ন্যানো কারখানার কাঠামো। শুরু হয়, জমিকে চাষযোগ্য করে তোলার কাজ।  বাম বিধায়কদের প্রশ্নের জবাবে রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সিঙ্গুর এ ধান, গম, আলু, কলা, ভুট্টা  এসব উৎপাদিত  হয়েছে। কোনও জমি পতিত  হয়নি , যাঁরা চাষ করতে চাইছেন সে চাষীরা চাষ করতে পারছেন।”

এ দিন বিধানসভার বাদল অধিবেশনে বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী প্রশ্ন তোলেন, সিঙ্গুরের কৃষকদের আয় কি দ্বিগুণ হয়েছে? এই প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শিল্প হচ্ছে। কৃষিও হচ্ছে। শুধু চিৎকার করলে হয় না।” এরপর মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ৯৯৭ একর জমির মধ্যে ৯৫৫ একরের কিছু বেশি জমি ফেরত দেওয়া হয়েছে। কোনও কৃষক চাষ করবে কি করবে না সেটা তাঁদের ব্যাপার। সিঙ্গুরের কৃষকদের জন্য সরকারের তরফে কী কী সাহায্য দেওয়া হয়েছে তারও হিসেব দেন মমতা।প্রসঙ্গত,  সিপিএম সরকার সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণের  ১০ বছর পর ২০১৬ সালে ১৪ প্রায় ১০০০ একর জমি আবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানীয় কৃষকদের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জমি চাষিদের হাতে তুলে দেওয়ার সময়ে  সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, ৯৫৫ একর জমি চাষযোগ্য। সেক্ষেত্রে বর্তমানে দেখা গিয়েছে, মাত্র ২৬০ একর জমিতে চাষ হয়েছে। কেন দুই তৃতীয়াংশ জমিতে কাজ হচ্ছে না? এদিন বিধানসভায় সেই প্রশ্ন করেন সুজন চক্রবর্তী।মুখ্যমন্ত্রী তাঁর উত্তরে বলেন,  “২০১৮-১৯ আর্থিক বছরে সিঙ্গুরে ২৬০ একর জমিতে চাষ হয়েছে।  সরকার কৃষক দের সবরকম সাহায্য করার পরেও চাষের পরিমাণ কেন কমছে আমি কী করে বলব?” তিনি দাবি করেন,  মাটি পরীক্ষা করে সার ও বীজ মিলিয়ে ১০ হাজার টাকা কৃষকদের  দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “জোর করে তো আর চাষিদের বলতে পারি না চাষ কর। কেউ জমি বিক্রি করে দিচ্ছে বেশি দাম পেয়ে। চাষের দামও বেড়েছে।”

 

 

Spread the love