জেলা প্রথম পাতা রাজ্যের খবর

গ্রুপ বাজি করেছিস, তোর জন্যই কোচবিহার হেরেছি! ভরা সভায় মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা মমতার

নিজস্ব প্রতিনিধি: লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে কার্যত মাটির সাথে মিশে গিয়েছে তৃণমূল।বিজেপির দাপটে কোনঠাসা শাসক নেতারাই। দলের এহেন ভরাডুবির দায় কেউ এড়িয়ে যেতে পারে না। দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরবঙ্গের মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে নজরে রাখছিল তৃণমূল। কারণ, নানা মহল থেকে একাধিক অভিযোগ আসছিল জেলা সভাপতির নামে। তবে এবারের নির্বাচনে কোচবিহার তৃণমূলের কাছে ছিল সম্মানের লড়াই। কিন্তু বিজেপির নীশিথ প্রামাণিকের কাছে হারতে হয়েছে তৃণমূল প্রার্থীকে। তবে হারের কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা গিয়েছে বেশ কয়েক জায়গায় বড়সড় গাফিলতি ছিল খোদ মন্ত্রী তথা জেলা সভাপতির। তবে বেশী দেরী না করে শেষে নির্বাচনের পরেই জেলা সভাপতির পদ থেকে রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে সরিয়ে দেয় তৃণমূল। তবে উত্তরবঙ্গের এই জেলার সংগঠন নিয়ে যে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অসন্তুষ্ট, তা অনেকদিন ধরেই টের পাওয়া যাচ্ছিল। তার আঁচ পড়ল বৃহস্পতিবার দলীয় বৈঠকে। দলের বিধায়কদের বৈঠকে কোচবিহারের নেতা তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে তীব্র ভর্ৎসনা করলেন নেত্রী। তৃণমূল ভবনের ভরা হল ঘরে বললেন, “শুধু গ্রুপবাজি করেছিস। কাজের কাজ কিচ্ছু করিসনি। তোর জন্যই হেরেছি কোচবিহারে।”লোকসভার পর থেকেই কোচবিহারে কোণঠাসা তৃণমূল। বিজেপি-র দখলে গিয়েছে একাধিক কার্য্যালয়। সেই তালা খুলতে গিয়ে দু’দফায় বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় রাজ্যসভাপতি সুব্রত বক্সীকে। প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রতিমা মণ্ডল, মালা রায়দের পাঠিয়েও কোচবিহারের কোন্দল ঠেকাতে পারেনি তৃণমূল।

নিচু তলার কর্মী থেকে একাধিক বিধায়কের অভিযোগের তির এক জনের দিকেই। তিনি রবি ঘোষ। মিহির গোস্বামীর মতো বর্ষীয়ান বিধায়ক পর্যন্ত বলেছেন, “উনি নিজের মতো করে দল চালিয়েছেন। কারও কথা শোনেননি। কাউকে ডাকেননি।” সব অভিযোগ জমতে জমতে ধৈয্যের বাঁধ ভেঙেছে নেত্রীর। তাই উত্তরবঙ্গের মন্ত্রী ভরা সভাতেই মমতা বলতে বাধ্য হলেন, শুধু লবি করেই কোচবিহারটা হারতে হয়েছে।

 

 

Spread the love