কলকাতা দেশ প্রথম পাতা

কেন্দ্রীয় দলের রাজ্যে আসা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে আবার ট্যুইট বার্তা রাজ্যপালের।

কেন্দ্রীয় দলের রাজ্যে আসা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে আবার ট্যুইট বার্তা রাজ্যপালের। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় দলের সঙ্গে সহযোগিতা করুন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এই আর্জি জানিয়ে ট্যুইট করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।

 

মঙ্গলবার সাতসকালে ট্যুইটে রাজ্যপাল লেখেন, ‘সবার কাছে আমার আবেদন, করোনা মোকাবিলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে সাহায্য করুন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আমার অনুরোধ, মানুষের দুর্দশা কাটাতে কেন্দ্রীয় দলের সঙ্গে সহযোগিতা করুন। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সহযোগিতা করা এবং বিতর্কে না-জড়ানোটা বাধ্যতামূলক।’

 

রাজ্য সরকারের মতামত না-জেনে সোমবার সরেজমিনে বাংলার করোনা-পরিস্থিতি দেখতে আসে কেন্দ্রের প্রতিনিধিদল। ‘প্রোটোকল’ মেনে রাজ্যের সাহায্য না-চেয়ে সেই কেন্দ্রীয় পরিদর্শকরা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সাহায্য নিয়ে এলাকা পরিদর্শনে বেরিয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। এমনকী, সেই কেন্দ্রীয় দল যে আসছে, তা মুখ্যমন্ত্রীকে বেলা একটায় ফোন করে জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিকে সকাল দশটাতেই ওই কেন্দ্রীয় পরিদর্শক দল নেমে পড়ে দমদম বিমানবন্দরে।

 

কেন্দ্রের এই আচরণকে ‘একতরফা এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর’ পরিপন্থী বলে অভিহিত করে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে টুইটারে, তার পর প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যদিও তরজার জল অনেক দূর গড়িয়ে যাওয়ার পর রাজ্য প্রশাসনের মনোভাব বুঝে বিকেলে নবান্নে এসে মুখ্যসচিবের সঙ্গে দেখা করেন ওই কেন্দ্রীয় পরিদর্শক দলের কয়েকজন সদস্য। এর আগে নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা কেন্দ্রীয় দলটির আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও জানান, করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের কোনও ব্যাপার নেই।

 

মুখ্যসচিব জানান, তিনি কেন্দ্রের বার্তা পাওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা দমদম বিমানবন্দরে নেমে পড়েন। এসএসবি, বিএসএফকে নিয়ে তাঁরা এলাকা ঘুরে দেখতে চলে যান বলেও ক্ষোভের সুরেই জানান রাজীব। তাঁর কথায়, ‘ওঁরা তো নিজেদের সার্কুলার নিজেরাই লঙ্ঘন করেছে। এ ভাবে আমাদের না-জানিয়ে ফিল্ডে চলে যাওয়া আমরা মেনে নিতে পারছি না।’

বিপ্লবী প্রফুল্ল চাকির নাতনি মাধবী তালুকদারের পাশে দাঁড়ালো স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।

এদিকে দেশে একদিনে সর্বাধিক বাড়ল করোনায় মৃতের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা প্রাণ কেড়েছে ৪৭ জনের। লাফিয়ে বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যাও। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে বুলেটিনে জানানো হয়েছে, দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৯০। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩৩৬ জনের শরীরে করোনা মিলেছে। এর ফলে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৮,৬০১।

 

সোমবার কেন্দ্রীয় দুই প্রতিনিধি দল রাজ্য করোনা পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসেছে। এনিয়ে রাজ্য মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল এসে পৌঁছানোর পর নবান্নে ফোন করে এবিষয়ে জানানো হয়। এই বাতাবরণেই রাজ্য- কেন্দ্র সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। আর এর মধ্যেই মঙ্গলবার ট্যুইট করে কেন্দ্রীয় দলকে সহযোগিতা করার আবেদন মুখ্যমন্ত্রীকে করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। এদিন তিনি ট্যুইট করে বলেন ” আবেদন করবো সবাইকে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সহযোগিতা করুন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে আমার অনুরোধ সহানুভূতির সঙ্গে কেন্দ্রীয় টিমকে যাতে সহযোগিতা করা হয়।

 

সহযোগিতা করুন কিন্তু কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে লড়াই করবেন না।” মূলত রাজ্যে আশা দুই কেন্দ্রীয় টিমকে যাতে রাজ্য প্রশাসন তথ্য সংগ্রহ সহযোগিতা করে সেই বিষয়ে মঙ্গলবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ট্যুইট করলেন রাজ্যপাল। পাশাপাশি পাশাপাশি গরিবদের স্বচ্ছতা সঙ্গে রেশন যাতে দেওয়া যায় তা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন রাখেন রাজ্যপাল। কারণ রাজ্যে রেশনিং ব্যবস্থার দুর্নীতি হচ্ছে এমন অভিযোগও উঠেছে।

Spread the love