দেশ প্রথম পাতা

বন্যায় ডুবেছে জেল! কলেজের ক্লাসরুমই এখন ঠিকানা কয়েদিদের, জলের মধ্যেই পাহাড়ায় বসে পুলিশ

নিজস্ব সংবাদদাতা:  অসমের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। বেশিরভাগ জেলা জলমগ্ন। কোথাও তো একতলা পর্যন্ত জলের তলায়। আর এই পরিস্থিতিতে সমস্যায় পড়েছেন ধুবড়ি জেলের অধিকর্তা। ব্রহ্মপুত্রের জলে ডুবে গিয়েছে জেল।বন্যায় বন্ধ কলেজ। শুধু তাই নয়, কলেজের ক্লাসরুমগুলিই এখন কয়েদখানায় রূপান্তরিত। ধুবড়ি জেলা সংশোধনাগারের বন্দিদের বর্তমান আশ্রয়স্থল ধুবড়ি গার্লস কলেজ। ব্রহ্মপুত্রের জল ঢুকে ধুবড়ি জেলার অবস্থা খুব খারাপ। যে রাস্তায় যান-বাহন চলত, সেই রাস্তায় চলছে নৌকা। বেশিরভাগ এলাকায় বাড়ির একতলাও ডুবে গিয়েছে জলে। ফলে বাধ্য হয়েই বাড়ির উপরের তলায় আশ্রয় নিয়েছে মানুষ। নৌকা নিয়ে বেরিয়ে কোনও রকমে যেটুকু দরকার, কিনে বাড়ি ঢুকে যাচ্ছে মানুষ। যাঁদের একতলা বাড়ি, তাঁরা বাধ্য হয়ে পাশের বাড়ি, নয়তো অন্য কোথাও গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন।এই পরিস্থিতিতে সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ধুবড়ি জেলের অধিকর্তা। ব্রহ্মপুত্রের জল যে জেলকেও ছাড় দেয়নি। জেলের ভিতর প্রায় এক মানুষ উঁচু জল। বন্যার জলে সংশোধনাগার ভেসে যাওয়ায় সেখানকার ৪০১ জন পুরুষ বন্দি ও আটজন মহিলা বন্দির জন্য মেক-শিফ্ট জেল এখন ধুবড়ি কলেজ। প্রথমে বন্দিদের আশ্রয়ের জন্য ঝুবড়ি জেলা গ্রন্থাগারের কথা ভাবা হয়েছিল। তবে সেটিও বন্যায় ভেসে গিয়েছে।

সংশোধনাগার থেকে ১০০ মিটার দূরত্বে অবস্থিত ঝুবড়ি গার্লস কলেজ। সেখানে গরমের ছুটিও চলছে। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে সব বন্দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে দ্রুতই কলেজেও বন্যার জল ঢুকে পড়লে বন্দিরা দোতলার ক্লাসরুমে গিয়ে আশ্রয় নেয়। সেখানেই তারা আপাতত বন্দি। কোনও ঝুঁকি না-নিয়ে দিনরাত সেখানে পাহারায় রয়েছে পুলিশ।

Spread the love