আজকের সারাদিন কলকাতা প্রথম পাতা

ট্রলি না পেয়ে কর্মীকে মারধরে অভিযুক্ত রোগীর পরিবার, রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এসএসকেএম

নিজস্ব প্রতিনিধি :  ফের উত্তেজনা হাসপাতালে। ট্রলি না পেয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক কর্মীকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিলেন রোগীর পরিজনেরা। পালটা মারধরের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালে কর্মীদের বিরুদ্ধেও। ধুন্ধুমার এসএসকেএম হাসপাতালে। ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত এ দিন সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ। হাওড়া থেকে একটি অ্যাম্বুল্যান্স এসে থামে এসএসকেএমের জরুরি বিভাগের সামনে। রোগীর সঙ্গে থাকা আত্মীয়রা জরুরি বিভাগে থাকা আকাশি উর্দিতে থাকা ইআরএস-এর নিরাপত্তারক্ষীদের ট্রলি আনতে বলেন।
বৃহস্পতিবার সকাল সওয়া দশটা নাগাদ নারায়ণ বাগচী নামে ৬৯ বছরের এক বৃদ্ধকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। রোগীর আত্মীয়রা জানিয়েছেন, প্রায় ৪০ মিনিট পর ডাক্তার এসে তাঁকে কার্ডিয়োলজি বিভাগে রেফার করেন। এরপর এক নিরাপত্তা কর্মীর কাছে ট্রলি চাইলে তিনি জানান, ট্রলি পেতে হলে কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। সব ট্রলিই অন্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। আত্মীয়দের অভিযোগ, ট্রলি পেতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এরই মধ্যে জরুরি বিভাগেই মৃত্যু হয় রোগীর।  এরপরই শুরু হয় গোলমাল। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। রাগের চোটে অমৃত রায় নামে হাসপাতালের ইআরএস কর্মীকে রোগীর পরিজনেরা মারধর করেন বলে অভিযোগ। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। দু জন আত্মীয়কে আটক করা হয়।
এর পর পুলিশের উদ্যোগেই ট্রলি জোগাড় করে রোগী নারায়ণচন্দ্র বাগচীকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। রোগীর পরিবারের অভিযোগ, ট্রলির জন্য অপেক্ষা করেই অ্যাম্বুল্যান্সেই মৃত্যু হয়েছে নারায়ণবাবুর। যদিও তা মানতে নারাজ নিরাপত্তারক্ষীরা। তাঁদের দাবি, মৃত অবস্থাতেই রোগীকে নিয়ে আসা হয়েছিল হাসপাতালে। কারণ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রোগী অনেক আগেই মারা গিয়েছেন।

 

Spread the love