গ্যাল্যারি দেশ প্রথম পাতা

বিহারের বাগমতির তীরে ভেসে আসা অর্জুনের ছবি দেখে স্তম্ভিত গোটা দেশ, উসকে দিচ্ছে ২০১৭-র স্মৃতিকে

নিজস্ব প্রতিনিধি— টানা বৃষ্টিতে হু হু করে বাড়ছে জলস্তর। ইতিমধ্যেই রেড অ্যালার্ট জারি হয়েছে বিহারের মুজফফরপুরে। ফুলে ফেঁপে উঠছে কোশি, বাগমতী, কামকা বালান নদী। তবে কি আরও একবার ভয়াবহ বন্যার রূপ নিতে চলেছে বিহার? অন্তত বাগমতী নদীতে ভেসে আসা তিন মাসের শিশুর দেহ ফের সেই বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মন আবহবিদদের।

সম্প্রতি একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ছবিটি বিহারের মিরজাপুর জেলার।নদীর তীরে হাত-পা ছড়িয়ে পড়ে রয়েছে নিথর দেহ। দেখলে মনে হবে ঠিক দেখে মনে হচ্ছে খেলতে খেলতেই যেন পাড়ি দিয়েছে নিরবিচ্ছিন্ন সেই ঘুমের দেশে৷ যেখানে অসহায়তা নেই, নেই এমন মর্মান্তিক পরিণতি৷ বিহার বন্যার শিকার ৩ বছরের অর্জুনের সেই নিথর দেহ দেখে বুক ফাটছে দেশবাসীর৷

গত বুধবার শীতলপট্টি এলাকার এক মা তাঁর চার সন্তানকে নিয়ে বাগমতী নদী এসেছিলেন৷ বাসন মাজা, কাপড় কাচা, স্নান করা ইত্যাদি ঘরের কাজ সারছিলেন রানি দেবী নামের ওই মহিলা৷ সে সময় প্রবল ঢেউয়ে ভেসে যায় অর্জুন৷ অর্জুনকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেন রানি৷ তিন সন্তান নিয়ে ঝাঁপ দেন নদীতে৷ সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের মানুষ তাঁদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন৷ কোনওমতে রানি দেবী ও তাঁর এক মেয়ে রাধাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়৷ অর্জুন, রাজা ও জ্যোতি ভেসে যায় নদীতে৷ এরপর বৃহস্পতিবার অর্জুনের দেহ ভেসে আসে৷ বিহারের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মারফৎ ছড়িয়ে পড়া এই ছবিটি দেখে চমকে উঠেছে দেশ।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলেন বিহারে। মৃতের সংখ্যা ছিল চারশোর উপরে। কয়েক লক্ষ মানুষ গৃহহারা ছিলেন। জলবন্দি ছিল কয়েক হাজার গ্রাম।

Untitled design (1)

কিছুদিন আগেই জলে ভেসে উঠেছিল বাবা ও মেয়ের নিথর দেহ৷ শেষ সময়েও বাবার টি-শার্টের মধ্যে মুখ গুঁজে ছিল ঠোট্ট মেয়েটি৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সীমান্তের রিও গ্রান্ডে নদীতে ভেসে ওঠা ওই ছবি গোটা পৃথিবীকে নাড়িয়ে দিয়েছিল৷ আর কয়েক বছর আগে সিরিয়ায় সমুদ্রের বালিতে মুখ গুঁজে পড়ে থাকা আয়লান কুর্দির ছবি তো সিরিয়ার উদ্বাস্তু সমস্যার ব্যান্ড আম্বাসাডর হয়ে গিয়েছিল৷

Spread the love