জেলা দেশ প্রথম পাতা

ঝাড়খন্ড লাগোয়া বাঁকুড়ার জঙ্গলে পাওয়া মৃত হাতিটির শরীরে ক্ষতের সংক্রমণই প্রাণ কাড়ল ।

অস্ত্রের একাধিক ক্ষতের সংক্রমণই প্রাণ কাড়ল দাঁতালের ,ঝাড়খন্ড লাগোয়া বাঁকুড়ার জঙ্গলে পাওয়া মৃত হাতিটির শরীরে দীর্ঘদিন ধরে থাকা বেশ কিছু ক্ষতর কারণেই সেটির মৃত্যু হয়েছে। হাতিটির ময়না তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার ময়না তদন্ত করা পশু চিকিৎসক চঞ্চল দত্ত জানান, ‘অনেক দিন ধরে ময়না তদন্ত করলেও আমি কোনওদিন হাতির শরীরে এত ক্ষত বা কাটা চিহ্ন দেখিনি। এই হাতিটির শরীরের একাধিক জায়গায় ধারালো অস্ত্র যেমন তির বা বল্লমের ছোট-বড় আঘাত ছিল। যেগুলি কমপক্ষে দশ-পনেরো দিন আগের কাটা চিহ্ন। মানুষের দ্বারা দীর্ঘদিন অত্যাচারের ফলে হাতিটি অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘দক্ষিণবঙ্গে এ ভাবে কেউ হাতির দাঁত কেটে নিয়ে যায় না। এ ক্ষেত্রে কুড়ুল বা অন্য কোনও ধারালো অস্ত্র দিয়ে দাঁত ভেঙে নেওয়া হয়েছে।’
ফলে প্রাথমিক ভাবে হাতির দাঁত উধাও হওয়ার ঘটনায় চোরাকারবারীদের যোগ থাকার সন্দেহ থাকলেও ময়না তদন্তের পর সেই তত্ত্ব খারিজ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সোমবার ঝাড়খণ্ডের ডিএফওর কাছ থেকে পাওয়া রিপোর্টে জানা গিয়েছে, দুই রাজ্যের সীমানায় থাকা বিভিন্ন গ্রামে ওই হাতিটি একাধিক মানুষকে আক্রমণ করেছিল। তা থেকে বাঁচতেই এলাকার মানুষজন অত্যাচার চালিয়েছিল হাতিটির উপরে। ঝাড়খণ্ড রাজ্যের মানুষের হাতে ‘অত্যাচারিত’ হয়ে রবিবার গভীর রাতে বাংলায় বাঁকড়ার জঙ্গলে পালিয়ে এসেছিল সে। কিন্তু শরীর অসুস্থ থাকায় ভোররাতে মৃত্যু হয় হাতিটির।
ঝাড়গ্রামের ডিএফও বাসবরাজ এস হোলেইচ্চি বলেন, ‘চাকুলিয়ার ডিএফও-র সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, হাতিটি অসুস্থ ছিল। শরীরে একাধিক ক্ষত থেকেই মৃত্যু হয়েছে। কিছুদিন আগে ঝাড়খণ্ডে হাতিটির সঙ্গে অন্য হাতির লড়াইও হয়েছিল। দাঁত চুরির বিষয়ে আমরা জামবনি থানায় এফআইআর করেছি। যেহেতু এলাকাটি একেবারে সীমান্তবর্তী তাই ঝাড়খণ্ড রাজ্যের বনকর্মীরাও তল্লাশি চালাচ্ছেন চুরি যাওয়া দাঁতের খোঁজে।’

Spread the love