দেশ প্রথম পাতা

থানা যেন কর্পোরেট অফিস! দেশের সেরা থানায় এফআইআর লেখাতে গেলে মেলে চা-সরবত, কয়েদিদের সেলে রয়েছে এয়ারকুলারও

নিজস্ব সংবাদদাতা: বাইরে তাপমাত্রার পারদ ছুঁয়েছে ৪৪ ডিগ্রি। কিন্তু থানার ভিতরে দিব্যি ঠাণ্ডা। গোটা থানাটাই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। কয়েদিদের সেলে ঢুঁ মারলে দেখা যাবে, খুনের আসামিও দিব্যি এয়ার কুলারের সামনে বসে হাওয়া খাচ্ছে। ঝকঝকে তকতকে থানার মেঝে, এক ফোটা ধুলোও পড়ে নেই কোথাও। এফআইআর লেখাতে গেলে, স্টেশন হাউস অফিসার হাসি মুখে বলেন, “অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছেন। একটু জিরিয়ে নিন। তারপর অভিযোগ লেখান। যাওয়ার আগে লাঞ্চটা সেরে যাবেন।” হ্যাঁ শুনলে একটু অবাক লাগলেও এদেশেই রয়েছে এরকম কর্পোরেট থানা। মরু শহর রাজস্থানের বুকে রয়েছে কালু পুলিশ স্টেশন। রাজস্থানের জয়পুর থেকে ৩০০ কিলোমিটার এবং বিকানীর থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত গ্রামের মধ্যে এই থানাই এখন ভারতের ‘থানা নম্বর ওয়ান।’ দেশের ১৫,৬৬৬ টি থানার মধ্যে থেকে ২০১৮ কালু থানাকে সেরা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।। দীর্ঘ সাত বছর ধরে এমন রীতিই চলে আসছে এই থানায়। অফিসারদের মুখ বদলেছে, কিন্তু মন বদলায়নি। অপরাধকে ঘৃণা করা হয় এখানে, অপরাধীকে নয়। তাই জন্তু-জানোয়ারের মতো নয়, মানুষের মতোই আচরণ করা হয় থানার ভিতরে। ছিঁচকে চোরকেও চেয়ারে বসিয়ে ‘নিম্বু পানি‘ খাওয়ান পুলিশ কর্তা। ভয়টা আগে দূর করা দরকার, বিচার তো তার পরে! কালু থানার এই নামেই ডাকতে ভালোবাসেন কনস্টেবল থেকে পুলিশের শীর্ষ কর্তারা।স্থানীয়রা বলেন থানা তো নয়, যেন কর্পোরেট অফিস। মরু শহরের প্রত্যন্ত গ্রামে এমন একটা থানা রয়েছে ভাবাই যায় না। এই থানার অধীনে রয়েছে ২৫টি গ্রাম। ধূ ধূ বালির প্রান্তরে দিনের বেলা তাপমাত্রা যখন ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠে, তখন কয়েদিদের সেলে যত্ন করে এয়ার কুলার চালিয়ে দেওয়া হয়। এগিয়ে দেওয়া হয় ঠাণ্ডা জলের বোতল।

থানার ভেতরে রয়েছে সাজানো ওয়েটিং রুম, থকথকে লাল গুটখার ছাপহীন দেওয়াল, প্রতিটি সেলের সঙ্গে আলাদা বাথরুম। থানার ভিতরে কাঠের ছোট ছোট কুঁড়ে বানানো হয়েছে, সেগুলিই পঞ্চায়েত কক্ষ। দলবল নিয়ে গ্রামের মাথারা সেখানে বসে অভিযোগ জানান। তা ছাড়া খেলাধূলার ভরপুর বন্দোবস্ত থানার ভিতরেই। পুলিশ কর্তাদের জন্য ভলিবল, বাস্কেটবল কোর্ট। কয়েদিদের জন্য রয়েছে মেডিটেশনের আলাদা ঘর।

Spread the love