কলকাতা জেলা প্রথম পাতা

ঝড়ের পূর্বাভাস! এপ্রিলের শুরুতেই রাজ্যে উঠবে ভোটের কালবৈশাখী, ৪০ দিনে ৪২টি লোকসভায় ‘মমতার’ ৯০টি সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেশে লোকসভা নির্বাচনী প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এবার শুরু পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসার পালা। রাজ্যের রাজনীতি ক্রমেই তপ্ত হচ্ছে ভোটের আবহে। শাসক-বিরোধী কোন পক্ষই যে কাউকে একইঞ্চিও ছেড়ে কথা বলবে না তা কার্যত নিশ্চিত। বিরোধীদের টেক্কা দিয়ে ৪২ আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে নির্বাচনী লড়াইয়ে খানিকা এগিয়েই লড়াই শুরু করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রার্থীরাও সময় নষ্ট না করে পুরোদমে নেমে পড়েছেন প্রচারে। তবে সবার যেন একটা প্রশ্ন তৃণমূল নেত্রী কবে থেকে ময়দানে নামতে চলেছেন? গত সাত দিনে মমতার বিশেষ দেখা নেই! দুপুরের দিকে নবান্ন গিয়ে তারপর সন্ধ্যায় সেখান থেকে সোজা কালীঘাটের বাড়িতে।মাঝে খুব একটা  প্রকাশ্য কোনও মঞ্চেই দেখা যাচ্ছে না তৃণমূল নেত্রীকে।

কিন্তু তৃণমূলের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৈরী। এবার শুধু ময়দানে নামার পালা। এপ্রিলের ২ তারিখ থেকেই রাতারাতি বদলে যাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রুটিন। বাংলায় এ বার সাত দফায় ভোট হবে। ১৯ মে শেষ দফার ভোট। তার আগে প্রচার চলবে ১৭ তারিখ পর্যন্ত। ২ তারিখ থেকে শুরু করে কমবেশি চল্লিশ দিন প্রায় একটানা প্রচার করবেন তৃনমূল সুপ্রিমো। এখনও পর্যন্ত যা সূচি তৈরি হয়েছে, তাতে সব মিলিয়ে নব্বইটি সভা করতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শাসক দলের শীর্ষ সূত্রে বলা হচ্ছে, জেলাওয়াড়ি পর্যবেক্ষকদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্র পিছু দুটি করে সভা করবেন তিনি। ৪২ টি লোকসভা আসনের জন্য ৮৪ টি সভা হবে তাঁর। এ ছাড়াও প্রয়োজন পড়লে কোনও কোনও আসনের জন্য সেই সংখ্যাটা বাড়তে পারে। তবে বলা বাহুল্য শাসক দলের অন্দরে কাম পাতলে শোনা যায়  তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়  ছাড়া কারও জনসভায় খুব একটা ভিড় চোখে পড়ে না। স্বাভাবিক ভাবেই বলা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সংখ্যায় সভা করবেন রাজ্যজুড়ে তাঁর থেকে ছোট বড় মিলিয়ে অনেক বেশী সভা করার দায়িত্বভার যাবে শুভেন্দু-অভিষেকদের কাঁধেই। বিজেপি দিল্লি থেকে উড়িয়ে আনতে চলেছে একের পর নেতা-মন্ত্রীদের। তাদের স্টার ক্যাম্পেনার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এপ্রিলের শুরুতেই রাজ্যে আসছেন।  দলের সভাপতি অমিত শাহ এবং যোগী আদিত্যনাথের মতো কেন্দ্রীয় নেতাদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মুল হাতিয়ার হিসাবে তুলে ধরতে চাইছে বঙ্গ বিজেপির নেতারা। সব মিলিয়ে বলা যায় এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে ঘুরতে চলেছে রাজ্য রাজনীতির চালচিত্র।

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।