করোনা জেলা প্রথম পাতা

সামাজিক দায়বদ্ধতা, রাজ্যের ত্রাণ তহবিলে আর্থিক সহায়তা প্রদান জেলা পুলিশের ।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য একাধারে যখন রাজ্য সরকার আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রেখে তা স্বাভাবিক রূপে ফিরিয়ে আনতে একের পর এক পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে , তখন অন্যদিকে মাটিতে নেমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সাথে সাথে দিনের পর দিন বিভিন্নভাবে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করেছেন বারাসত জেলা পুলিশের সকল আধিকারিকরা। অসহায় গরীব মানুষদের মুখে খাদ্য তুলে দেওয়ার পাশাপাশি লকডাউনের নিয়ম অমান্যকারীদের প্রতি তাঁরা নিয়েছেন কড়া ব্যবস্থা। এভাবেই মানুষের স্বার্থে পুরোদস্তুর রক্ষকের ভূমিকায় দিনের পর দিন কাজ করে চলেছেন তারা। এবার সেই বারাসত জেলা পুলিশদেরই দেখা গেল আরও এক মানবিক মুখ, এই কঠিন পরিস্থিতির মাঝেও যে তারা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিন্দুমাত্রও পিছু হটতে নারাজ, আরও একবার তার প্রমাণ দিলেন তারা।
নোবেল করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নাগরিকদের প্রতি সংহতির চিহ্ন হিসাবে বারাসত জেলার সমস্ত পুলিশ কর্মী এবং মিনিষ্ট্রিয়াল কর্মীরা একত্রে স্বেচ্ছায় তাঁদের এক দিনের মাইনে দান করলেন ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইমারজেন্সি রিলিফ ফান্ডে। শুক্রবার জেলা পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় সব মিলিয়ে মোট ৮, ৪৩, ৭০০ টাকার একটি চেক তুলে দেন মাননীয় দক্ষিণবঙ্গের আইজি রাজীব মিশ্রর হাতে। এ দিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় বারাসত রেঞ্জের ডিআইজি সি সুধাকরও।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শুধু হাতে প্রতিনিয়ত মানুষের সেবা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। তাই এই করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রাজ্য সরকারের হাত কিছুটা হলেও মজবুত থাকা দরকার। যে কারণে আমরাও একত্রিত ভাবে অন্যান্য দায়িত্ববান নাগরিকদের মতই এদিন রাজ্যের রিলিফ ফান্ডে আমাদের একদিনের বেতন দান করেছি।
অপরদিকে , শুক্রবার কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৯ তম জন্মদিবস উপলক্ষে “কবি প্রণাম” নামাঙ্কিত একটি অনুষ্ঠান সম্পন্ন হল বারাসত জেলা পুলিশের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায়। রাজ্য সরকারের নির্দেশে এদিন বারাসত জেলা পুলিশের সাব ডিভিশন পুলিশ আধিকারিক সত্যব্রত চক্রবর্তীকে দেখা গেল বারাসতের চাপাডালি মোড়ের কাছে একটি ট্যাবলো গাড়ি সঙ্গে করে নিয়ে মাইকে রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়ে ২৫ শে বৈশাখ উদযাপন করতে । সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলার পুলিশ সুপার অভিজিৎ ব্যানার্জী সহ অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকরাও।
তবে শুধুমাত্র বারাসত নয় বরং এদিন রবীঠাকুরের কাটআউট সমন্বিত প্রতিকৃতি সুসজ্জিত ট্যাবলোটি আরও একাধিক অঞ্চল যেমন মধ্যমগ্রাম, হাবরা, অশোকনগর প্রভৃতি এলাকাতেও প্রদর্শিত হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার। তিনি জানান, অন্যান্যবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কবিপ্রনাম সম্পন্ন হলেও এবারে করোনা আবহে তা স্থগিত। তাই করোনা সচেতনতার পাশাপাশি ট্যাবলো সহযোগে কবিপ্রণামের আয়োজন করা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন ২৫ শে বৈশাখ উদযাপন করা হল, তেমনই অন্যদিকে মানুষকে সচেতন করার কাজও করা হল।
এছাড়া এদিন উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সম্মেলন কক্ষেও উদযাপন করা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম দিবস। লকডাউনের বিধিনিষেধ জারি থাকায় জনসাধারণের অনুপস্থিতিতেই যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করে জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক দেবাশিস দত্ত বিশ্বকবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।

Spread the love