কলকাতা প্রথম পাতা রাজনৈতিক

শোভনের বৈঠক বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রামলালের সঙ্গে! বিজেপি যোগদানের নতুন জল্পনা

নিজস্ব প্রতিনিধি— রাজ্যের মন্ত্রিত্ব এবং কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর থেকে দলের কোনও কর্মসূচিতে যোগ দিতে যে আর আগ্রহী নন, তা-ও স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিতে শুরু করেছেন প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। স্বাভাবিক কারণেই শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা তৈরি হয়। কিন্তু লোকসভার নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগদানের যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল সেই জল্পনায় জল ঢেলে দেন শোভনবাবু। একই সঙ্গে তাঁর বান্ধবী তথা মিল্লি আল-আমিন কলেজের অধ্যক্ষা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হতে পারেন, এমন কথাও শোনা যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত বিজেপির টিকিটে ভোটে তাঁরা লড়েননি। লোকসভা নির্বাচনের পর তাঁর দিল্লিতে যাওয়া নিয়েও আরও একবার বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা শুরু হয়। সেই দিল্লি সফর নিয়ে শোভন কোথাও মুখ না খুললেও বান্ধবী বৈশাখী বলেছিলেন, নিতান্তই ব্যক্তিগত কাজে সেই দিল্লি সফর। কিন্তু লোকসভা নির্বাচন মেটার পরে শোভন-বৈশাখীর বিজেপি-গমন নিয়ে জল্পনা যখন ফের বাড়ছে, ঠিক তখনই তাঁরা দিল্লিতে গেলে রাজনৈতিক চর্চা স্বাভাবিক কারণেই বাড়ে। সেই জল্পনা প্রসঙ্গে সরাসরি জবাব অবশ্য এড়িয়ে গেলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বললেন, ”আমি ব্যক্তিগত কাজেই দিল্লি গিয়েছিলাম। শোভন চট্টোপাধ্যায় কী কারণে গিয়েছিলেন, সেটা তিনিই বলবেন। সময় হলেই বলবেন।”

বিজেপি সূত্রের খবর, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথাবার্তা অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে শোভন-বৈশাখীর। লোকসভা নির্বাচনের আগে কথা হচ্ছিল শুধু বৈশাখীর সঙ্গে। এ বার শোভন চট্টোপাধ্যায় নিজেও কথাবার্তায় অংশ নিয়েছেন বলে খবর। গত শনিবার পর্যন্ত যিনি বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) পদে ছিলেন, সেই রামলালের সঙ্গেই শোভন-বৈশাখীর বৈঠক হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সে বৈঠক খোদ অমিত শাহ এবং জে পি নাড্ডার সম্মতিক্রমেই হয়েছে বলেও খবর। বিজেপি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে যে, বৈঠক শেষে শোভন-বৈশাখীর সঙ্গে রামলাল আলাপ করিয়ে দেন বি এল সন্তোষের, যিনি গত রবিবার থেকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) হিসেবে কাজ শুরু করেছেন।

শোভনের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, তিনি ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা সম্পর্কে মনস্থির করেই ফেলেছেন। শোভন মেয়র পদ ছাড়ার পরেও কলকাতা পুরসভার বেশ কিছু কাউন্সিলর নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন তাঁর সঙ্গে। পুরভোট যত এগিয়ে আসছে, যোগাযোগ রাখা কাউন্সিলরের সংখ্যা ততই বাড়ছে বলে খবর। তৃণমূলের হয়ে নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠুন শোভন, এমন কোনও দাবি বা আর্জি নিয়ে কিন্তু এই যোগাযোগ নয়। বরং উল্টো দাবিই উঠছে। শোভনও এ বার অনুগামী ও ঘনিষ্ঠদের উদ্দেশে নতুন লড়াইয়ের জন্য কোমর বাঁধার বার্তা দিতে শুরু করেছেন বলে খবর।

Spread the love