করোনা প্রথম পাতা রাজ্যের খবর

কেন্দ্রের সংশোধিত তালিকায় রাজ্যের আরও ছয় জেলা লাল তালিকায় ।

কেন্দ্রের সংশোধিত তালিকায় রাজ্যের আরও ছয় জেলা লাল তালিকায় ,ছিল চার। হয়ে গেল ১০। আগের চারটি জেলার সঙ্গে যোগ হল আরও ছ’টি জেলা। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব প্রতিটি রাজ্যকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন সংশোধিত রেড-অরেঞ্জ এবং গ্রিন জোনের তালিকা। সেই তালিকা অনুযায়ী রাজ্যে রেড জোন জেলার সংখ্যা এক লাফে হয়ে গেল ১০।
কেন্দ্রের নয়া তালিকা অনুযায়ী রাজ্যের ১০ টি জেলা রেড জোন ভুক্ত, ৫টি অরেঞ্জ এবং ৮টি গ্রিন জোন ভুক্ত। গোটা দেশে ১৩০ টি জেলা রেড জোনে, ২৮৪ টি অরেঞ্জ জোনে এবং ৩১৯ টি গ্রিন জোন ভুক্ত।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব প্রীতি সুদানের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতি সপ্তাহে কেন্দ্র সংক্রমণের হার, কতদিনে সংক্রমণের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে, কতজন ব্যক্তি সংক্রমিতের সংস্পর্শে আসছেন, তা পর্যালোচনা করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আগেই কেন্দ্রীয় সরকার কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগণা এবং পূর্ব মেদিনীপুরকে রেড জোন হিসাবে ঘোষণা করেছিল। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, পশ্চিম মেদিনীপুর, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, মালদহ জেলাও। অরেঞ্জ জোনের মধ্যে রয়েছে মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, দুই বর্ধমান এবং হুগলি। বাকি আট জেলা গ্রিন জোনের অন্তর্ভুক্ত।
তবে স্বাস্থ্যসচিবের চিঠিতে আরও স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, এই তালিকার সঙ্গে রাজ্য স্থানীয় তথ্যের উপর ভিত্তি করে আরও এলাকা যুক্ত করতে পারে। কিন্তু এই তালিকা থেকে কোনও এলাকা বাদ দিতে পারবে না। প্রীতি সুদান এই চিঠিতে মুখ্য সচিবকে জানিয়েছেন, প্রথম পর্যায়ে এই জোন ভাগ করে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে সংক্রমণের হারকে বা দ্বিগুণ হওয়ার হারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই মুহুর্তে গোটা দেশে রোগমুক্ত হয়ে ওঠা মানুষের সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায়, আরও বৃহত্তর আঙ্গিক বিচার করে এই জোন ভেদ করা হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে দেখা হচ্ছে, কতটা নজরদারি হচ্ছে, কত নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে বা ওই এলাকা থেকে সামগ্রিক ভাবে কী প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে, তার উপর। তবে সেই সঙ্গে দেখা হচ্ছে সংক্রমণের সংখ্যাও।
এই চিঠিতে জানানো হয়েছে, গত ২১ দিনের মধ্যে কোনও জেলায় যদি একটিও সংক্রমণের ঘটনা না ঘটে তবে সেই এলাকাকে গ্রিন জোন ভুক্ত করা যাবে। তবে সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, এই তালিকা সংক্রমণের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে প্রতি মুহুর্তেই পরিবর্তনশীল।
এই চিঠিতে আরও জানানো হয়েছে, জেলায় থাকা পুরসভাগুলিতে আলাদা এলাকা হিসাবে ধরা যাবে। অর্থাৎ কোনও জেলায় তিনটি পুরসভা থাকলে তিনটি আলাদা জোন, সঙ্গে বাকি জেলা আরও একটি জোন। যদি কোনও পুরসভা এলাকায় গত ২১ দিনে একটিও সংক্রমণের ঘটনা না ঘটে, তবে সেই পুরসভা রেড জোন ভুক্ত জেলার মধ্যে থাকলেও, তা অরেঞ্জ জোন হিসাবে চিহ্নিত করা যাবে।
এই চি‌ঠিতে কনটেনমেন্ট জোনে কোভিড সংক্রমণ শৃঙ্খল ভাঙার জন্য চারটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
১। সংক্রমিত এবং তাঁর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাঁদের অবস্থান সুনির্দিষ্ট করা
২। সংক্রমিত এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের দূরত্ব বৃদ্ধি নিশ্চিত করা
৩। কনটেনমেন্ট এলাকা সঠিক ভাবে চিহ্নিত করণ
৪। প্রয়োজনীয় নিয়ম এবং বিধির সঠিকভাবে প্রয়োগ।
এই চিঠিতে বলা হয়েছে কী ভাবে কনটেনমেন্ট জোন চিহ্নিত করা হবে। সেই সঙ্গে কনটেনমেন্ট জোনের বিধিনিষেধও বলা হয়েছে।
কনটেনমেন্ট জোনের বিধিঃ
১। কনটেনমেন্ট জোনে ঢোকা-বেরনোর সুনির্দিষ্ট রাস্তা চিহ্নিত করণ
২। চিকিৎসা এবং অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ছাড়া সমস্ত কিছুর প্রবেশ নিষিদ্ধ করা
৩। শারীরিক পরীক্ষা ছাড়া ওই এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা।
৪। ওই এলাকা থেকে বেরোতে গেলেও করতে হবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা
৫। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের অসুস্থতা আছে কি না, তা খোঁজ নেওয়া এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া
৬। কেন্দ্রীয় গাইডলাইন মেনে নমুনা পরীক্ষা এবং আক্রান্তদের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তি চিহ্নিতকরণ

Spread the love