জেলা প্রথম পাতা

গুরুতর তথ্য দেখে ‘চোখ বন্ধ করে’ থাকা যায় না, রাজীব মামলায় সিবিআইয়ের রিপোর্টে বিশেষ নজর সুপ্রিম কোর্টের

নিজস্ব সংবাদদাতা: সিবিআই বনাম রাজীব কুমার মামলার মঙ্গলবার শুনানি ছিল দেশের শীর্ষ আদালতে। এদিন এই মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মন্তব্য করেছে, যে সব গুরুতর তথ্য উঠে এসেছে, সেগুলির দিকে ‘চোখ বন্ধ করে’ থাকা যায় না। সুপ্রিম কোর্ট সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে, তারা যেন আবেদন করে আদালতকে জানায়, যে তারা রাজীব কুমারের বিষয়ে কী পদক্ষেপ করতে চায়। উল্লেখ্য  কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার রাজীব কুমারকে সম্প্রতি যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, সে ব্যাপারে সিবিআইয়ের দেওয়া নতুন স্টেটাস রিপোর্টে উন্মোচিত কিছু তথ্যকে ‘খুবই গুরুতর’ বলে মঙ্গলবার অভিহিত করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

সারদা চিট ফান্ড মামলার তদন্তের জন্য যে স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) তৈরি করা হয়েছিল, তার প্রধান পরিচালক ছিলেন রাজীব কুমার। এই বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, এই আবেদন যেন দশ দিনের মধ্যে কোর্টের কাছে জমা দেয় সিবিআই। তার পরে, সাত দিনের মধ্যে তাঁর বক্তব্যও আদালতে জানাতে পারবেন রাজীব কুমার।কোর্ট জানিয়েছে, সিবিআই স্টেটাস রিপোর্ট সিল করা কভারে জমা পড়েছে। এবং অন্য পক্ষের বক্তব্য না শুনে আদালত কোনও রায় দিতে পারবে না।

দিকে মঙ্গলবারই বারাসতে বিশেষ আদালতে সারদার মূল মামলায় রাজীবকুমারের নাম অভিযুক্ত হিসেবে নথিভুক্ত করার আবেদন করেন কুণাল ঘোষ। আদালত অবমাননার মামলায় সুপ্রিম কোর্টে সিবিআই যে হলফনামা দিয়েছে, তার কপি তিনি RC 04 মামলায় পিটিশনসহ ফাইল করেন। তাঁর আইনজীবী অয়ন চক্রবর্তী বলেন,” সিবিআই যখন সুপ্রিম কোর্টে বলছে রাজীবকুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তাহলে মূল এই মামলায় তারা বলুক রাজীবের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” আইনজীবী রজনীশ মৌলিক বলেন,” আদালত পিটিশন গ্রহণ করেছেন। সিবিআইকে রিপোর্ট দিতে বলবেন আদালত।” বিচারক সোমনাথ চক্রবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ পিটিশন মামলার রেকর্ডে রেখে দেন।
 
ফলে দিল্লি ও কলকাতা, দুই দিকেই রাজীবকুমার প্রবল আইনি চাপে পড়লেন। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তে অসহযোগিতা, তথ্য গোপন, সাক্ষীদের উপর প্রভাবখাটানোর মাধ্যমে প্রভাবশালীদের আড়াল করার অভিযোগ রয়েছে।
 
 
 
 
Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।