দেশ প্রথম পাতা

অভিশাপ কাটাতে ৩ বছরের শিশুকে বলি দেওয়ার চেষ্টা বিজ্ঞান শিক্ষকের! কুসংস্কার রুখতে গুলি চালাল পুলিশ

নিজস্ব প্রতিনিধি : একবিংশ শতকেও কুসংস্কারের ভয়ঙ্কর ছবি। শিশুবলির নৃশংস প্রস্তুতি। দুধের শিশুকে প্রাণে বাঁচাতে গিয়ে বাধ্য হয়ে গুলিও চালাতে হয় পুলিশকে৷ গুলিবিদ্ধ হয়ে জখম হয়েছে দু’জন৷ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল অসমের উদালগুড়ির গণকপাড়া গ্রাম৷ ইতিমধ্যেই পুলিশ তান্ত্রিক-সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে৷

গ্রামবাসীর জানিয়েছেন, শনিবার দুপুর থেকেই অনেকক্ষণ ধরে শহরিয়া পরিবারের বাড়ির ভিতর থেকে মন্ত্রোচ্চারণের আওয়াজ পাচ্ছিলেন তাঁরা। বুঝতেই পারেন কোনও পুজো হচ্ছে। চলছে যজ্ঞ। কিন্তু পুজোয় গ্রামের কাউকেই নিমন্ত্রণ করেনি ওই পরিবার। এতেই প্রথম সন্দেহ জাগে স্থানীয়দের মনে। তারপর বাড়ির ভিতর উঁকি মারতেই শিউরে ওঠেন গ্রামবাসীদের কয়েকজন। তাঁরা জানিয়েছেন, তান্ত্রিকের নির্দেশে শিশুবলির প্রস্তুতি তখন শেষ পর্যায়ে। হাঁড়িকাঠে সন্তানের গলা কাটতে শান দেওয়া হচ্ছে খড়গে। তারস্বরে চলছে মন্ত্রোচ্চারণ, যজ্ঞ। যজ্ঞের লকলকে আগুনের শিখা ঘিরে চলছে পরিবারের উন্মত্ত উলঙ্গ নৃত্য। পর মুহূর্তেই তাঁরা দেখেন ওই পরিবারের বছর তিনেকের শিশুকে বলি দেওয়ার চেষ্টা করছে তান্ত্রিক এবং পরিবারের লোকজনেরা৷

স্থানীয় শিক্ষক যাদব চহরিয়ার বাড়িতে বছর তিনেক আগে ঘাঁটি গাড়েন তান্ত্রিক রমেশ চহরিয়া। তার নির্দেশেই শিশু বলির আয়োজন করে পরিবার। তান্ত্রিকের মগজধোলাইয়ে বাড়িতে থাকা বাইক ও গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় পরিবারের লোকেরাই। প্রতিবেশীরা উন্মত্ত তাণ্ডব আটকানোর চেষ্টা করলেও কোনও ফল হয়নি। অভিযোগ, উল্টে তাদের দিকেই ধারালো অস্ত্র নিয়ে ছুটে আসেন ওই পরিবারের সদস্যরা। বাধ্য হয়ে পুলিসে খবর দেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পুলিশ জানিয়েছে, এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে অসমের ওদালগুড়ি জেলার কলাইগাঁওয়ে। যে পরিবারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে সেই পরিবারের একজন আবার পেশায় বিজ্ঞানের শিক্ষক। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির নাম যাদব শহরিয়া। অসমের রৌতার লালবাহাদুর শাস্ত্রী মেমোরিয়াল হাইস্কুলের বিজ্ঞানের শিক্ষক সে। এই নরবলির ঘটনার মূল পাণ্ডাও এই যাদবই। এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিসের আর্জিতেও কোনও কাজ হয়নি। থামানো যায়নি চাণ্ডব। নরবলি রুখতে শেষমেষ গুলি চালাতে হয় পুলিসকে। পুলিসের গুলিতে জখম হন গৃহকর্তা যাদব চহরিয়া। ভন্ড সাধুকে গ্রেফতার করেছে পুলিস। আটক করা হয়েছে পরিবারের অন্য সদস্যদের।

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।