প্রথম পাতা

ছোট মণিরামজোতের বাসিন্দাদের ভোট বয়কটের হুমকি

বাসিন্দাদের দাবি: জলের সংকট, বেহাল রাস্তা, সেতুর অভাব

নিজস্ব প্রতিনিধি— বেহাল রাস্তা, পানীয় জলের সংকট, সেতুর অভাব সহ একাধিক সমস্যায় জর্জরিত এই ছোটো গ্রামটি। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা সমাধানের দাবি জানানো হলেও তা পূরণ না হওয়ায় এবারের লোকসভা ভোট বয়কটের হুমকি দিয়েছেন গ্রামবাসীরা। এককথায় উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে এখনও বঞ্চিত নকশালবাড়ি মণিরাম গ্রামপঞ্চায়েতের অন্তর্গত ছোট মণিরামজোত সংসদ।

নকশালবাড়ির রঞ্জিত মোড় থেকে ছোট মণিরামজোত পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘ দশ বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বেহাল রাস্তার জন্য বিপাকে পড়েছেন ছোট মণিরামজোত সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার গ্রামবাসী। পাথর বিছানো ওই রাস্তার অধিকাংশেই দু’পাশের পাথর সরে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে ওই রাস্তা দিয়ে সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। পাথুরে রাস্তায় চলাচলে এতটাই দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে যে দিনদিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসের ভূমিকম্পে নিহত রূপবান খাতুনের পরিবারকে সহানুভূতি জানাতে এবং তাঁদের আর্থিক সাহায্য করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছোট মণিরামজোতে এসেছিলেন। এই বেহাল রাস্তা দিয়ে কী করে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় নিয়ে যাওয়া হবে তা ভেবে তখন দিশাহারা হয়ে পড়েছিলেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। পরে তারা ঠিক করেন মূল রাস্তা দিয়ে না গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়কে প্রায় ১০ কিমি ঘুরপথ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী সেই সময় রাস্তার বেহাল অবস্থা দেখে প্রশাসনিক আধিকারিকদের ধমক দিয়ে দ্রুত রাস্তা সংস্কারের আদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরও দিনের পর দিন পেরিয়ে গেলেও রাস্তা সংস্কার, পানীয় জল, সেতুর দাবি, কবরস্থানে প্রাচীরের মতো নানা সমস্যা মেটাতে প্রশাসন কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের।

পঞ্চায়েত সদস্যা রাধিকা বর্মন বলেন, দশ বছর আগে নকশালবাড়ি সমষ্টি উন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে রাস্তায় পাথর বিছানোর কাজ করা হয়েছিল। তবে পাথর বিছানো এই রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় এখনও তা বেহাল অবস্থাতেই পড়ে রয়েছে।

রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে বহুবার নকশালবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতি ও ব্লকস্তরে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এর পাশাপাশি রাস্তার মাঝে যে কজওয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে তাতে পায়ে হাঁটার জন্য ছোটো সেতু নির্মাণের পর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তার একাংশ ধসে গিয়েছে। বিকল্প উপায় হিসেবে বাঁশের মাচা তৈরি করা হলেও। সেটারও কিছু অংশ ভেঙে গিয়েছে। ফলে কজওয়ের নীচে জমা জল দিয়ে সাধারণ মানুষকে পারাপার করতে হয়। খরার মরশুমে জলস্তর কম হলেও বর্ষার মরসুমে কজওয়ে পারাপার করা সাধারণ মানুষের কাছে দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। গ্রামবাসীদের দাবি, সেখানে একটা বড় সেতু তৈরি করা হোক। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার ধারে পিএইচই’র পাইপ ফেটে প্রচুর জল ড্রেনে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে এলাকার স্ট্যান্ড পোস্টগুলিতে জল আসে না। এই নিয়ে বহুবার স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রশাসনকে আবেদন জানানো হয়েছে। অপর বাসিন্দা রঞ্জন আলি, কেশমতী খাতুন, লাভলি খাতুন প্রমুখ জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে কবরস্থানের প্রাচীরটি অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বিডিও অফিস থেকে শুধু প্রাচীরের মাপজোখ করে নিয়ে যায় কিন্তু কাজ শুরু করা হয় না। তেজবাহাদুর প্রধান, নীতেন সিংহ, বাংরু সিংহ, প্রকাশ ছেত্রী, হরি শর্মা প্রমুখ বাসিন্দার অভিযোগ, তাঁদের সমস্যাগুলি মেটানো হবে বলে বহুদিন ধরে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কোনও কাজ হয়নি। তাই গ্রামবাসীরা ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মণিরাম গ্রামপঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা গৌতম ঘোষ বলেন, ‘আমাদের পক্ষে এত বড় রাস্তা তৈরি করা সম্ভব নয়। তবে আমরা শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি আরও বলেন, ওই রাস্তা দিয়ে ট্রাক্টর চলাচল করায় জলের পাইপ ফেটে গিয়েছে। এই বিষয়ে এলাকাবাসীকে সচেতন হতে হবে।

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।