আম্ফান দেশ প্রথম পাতা

রেহাই মুম্বইয়ের, ১ প্রাণ কেড়ে স্তিমিত নিসর্গ ।

করোনা আাবহে অদৃশ্য ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মাঝেও দুই রাজ্যই তৈরি ছিল ‘নিসর্গের’ মুখোমুখি হতে। তবে মহারাষ্ট্র ও গুজরাতকে আর বিড়ম্বনায় ফেলেনি নিসর্গ।
বৃষ্টিতে ভিজেছে শহর। বাড়িতে বিদ্যুৎ রয়েছে। অল্প কিছু গাছ পড়া বা বাড়ির চাল উড়ে যাওয়া ছাড়া আর কিছু ক্ষতি করেনি নিসর্গ। সমুদ্র-শহর আলিবাগে ঝড় আসার সময়ে বিদ্যুতের খুঁটি চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে দশরথ বাবু ওয়াঘমারে (৫৮) নামে এক প্রৌঢ়ের।
বেলা সাড়ে ১২টা থেকে আলিবাগ উপকূলে আছড়ে পড়তে শুরু করে নিসর্গ। সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। সেই গতিবেগও দ্রুত কমেছে। মহারাষ্ট্রে সর্বাধিক বৃষ্টি হয়েছে আলিবাগেই, বিদ্যুতের কিছু খুঁটি উপড়েছে, সমুদ্রতট এলাকায় উপড়েছে গাছ। কাঁচা বাড়িও ভেঙেছে। ক্রমশ বৃষ্টি নেমেছে মুম্বই, নবী মুম্বই, পুণে, ঠাণেতে। বৃষ্টির মধ্যে মুম্বইয়ে নামতে গিয়ে রানওয়ে থেকে পিছলে যায় একটি মালবাহী বিমান। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিমান ওঠানামা বন্ধ করে দেওয়া হয় মুম্বইয়ে। সময় ও যাত্রাপথ বদলায় কিছু বিশেষ ট্রেনেরও।

তবে সান্তাক্রুজ়েরই একটি ঝুপড়িতে ঝোড়ো হাওয়ায় সিমেন্টের ব্লক চাপা পড়ে আহত হয়েছেন তিন জন। নবী মুম্বইয়ে বৃষ্টি একটু বেশি,জানালেন এরোলী-র বাসিন্দা সম্পূর্ণা মিত্র।দু’একটা গাছ পড়েছে নেরালএ।
কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল গোকুলচন্দ্র দেবনাথ বললেন, ‘‘নিসর্গ স্থলভূমিতে ঢুকেছে মুম্বই থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে এবং তা উত্তর-পূর্বে অর্থাৎ পুণের দিকে চলে গিয়েছে। দ্বিতীয়ত, স্থলভূমিতে ঢুকে নিসর্গ পশ্চিমঘাট পর্বতে ধাক্কা খেয়েছে এবং তাতে দ্রুত শক্তি ক্ষয় হয়েছে।’’মৌসম ভবনের খবর, বিকেল সাড়ে ৪টের মধ্যেই নিসর্গ সাধারণ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। স্থলভূমিতে ঢোকার সময়ে আমপানের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার। নিসর্গের সেই শক্তি ছিল না।
আবহবিজ্ঞানীরা বলছেন, সাধারণত আরব সাগরের ঘূর্ণিঝড় ওমান-ইয়েমেনের মতো দেশের দিকে যায়। কিন্তু এ বার একটি উচ্চচাপ বলয়ের ঠেলায় ঝড় ওই দিকে যেতে পারেনি। পরিবর্তে উপরের বায়ুস্তরের প্রভাবে সে মহারাষ্ট্র উপকূলে চলে এসেছিল। সেই বায়ুস্তরের চাপই মুম্বইয়ের বদলে পুণের দিকে পাঠিয়ে দিয়েছে তাকে।
গুজরাতের ত্রাণ কমিশনার হর্ষদ পটেল জানান, উপকূলের আটটি জেলা থেকে ৬৩ হাজারেরও বেশি মানুষকে তাঁরা সরিয়েছিলেন। ভালসাদ ও নভসারী জেলায় মোটামুটি বৃষ্টি হয়েছে। তবে রাত পর্যন্ত সে রাজ্যে ঝড়বৃষ্টিজনিত দুর্ঘটনার খবর নেই।

Spread the love