জেলা প্রথম পাতা

উত্তরবঙ্গের ৮ জেলায় লাল সতর্কতা, দক্ষিণবঙ্গে আজও অস্বস্তি বজায়

নিজস্ব প্রতিনিধি— আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের ৮টি জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে লালসতর্কতাও। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, মৌসুমি অক্ষরেখা কোচবিহার থেকে নাগাল্যান্ডের উপর দিয়ে গিয়েছে। এর জেরে ফের বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি হয়েছে। পাশাপাশি এও জানানো হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম বর্ষা দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপরে বেশ শক্তিশালী। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, ২৩ জুলাই কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ির দুই একটি জায়গায় ৭০ থেকে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ির কয়েকটি অঞ্চলে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। ৭০ থেকে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে মালদহ, উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিন দিনাজপুরের বেশ কিছু অঞ্চলে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলাতেই বইবে ঝোড়ো হাওয়া। ২৪ জুলাই কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে হাওয়া অফিসের তরফে। ওই দিনও কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ির দুই একটি জায়গায় ৭০ থেকে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে।

অপরদিকে, দক্ষিণবঙ্গের ক্ষেত্রে আজ মঙ্গলবারও কোনও সুখবর দিল না হাওয়া অফিস। গত কয়েকদিনের মতো আজও দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। তবে তার মধ্যেও দিনের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অস্বস্তিও বাড়বে বলে জানা গিয়েছে। পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে নেই শক্তিশালী ‘সিস্টেম’। তাই বর্ষাও শক্তিহীন দক্ষিণবঙ্গে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই কলকাতায়। তবে আগামী শুক্রবার, শনিবার থেকে কলকাতা ও তার আশ-পাশের এলাকাগুলিতে বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে বলে আশার বাণী শুনিয়েছেন হাওয়া অফিস। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা গণেশকুমার দাস বলেন, ‘সাইনঅপটিক্যাল সিস্টেম অর্থাৎ কোনওরকম নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্ত দানা বাঁধলে বর্ষা শক্তি নিয়ে এগিয়ে আসতে পারে। এবারে সেটাই হচ্ছে না।’

এদিকে পরিবেশবিদদের যুক্তি অন্য। তারা মনে করছেন, জলবায়ু বদলের প্রভাবে বর্ষার চরিত্র বদল হচ্ছে। বর্ষার আসল সময়ে অর্থাৎ জুন-জুলাই মাসে বৃষ্টিপাত কম হচ্ছে। তার ফলই এই মরসুমে প্রকট হয়ে উঠছে। পয়লা জুন থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাপ ৪৪০.৯ মিলিমিটার। সেখানে বৃষ্টি হয়েছে ২২২.৫ মিলিমিটার। ঘাটতি ৫০ শতাংশ। ১১ জুলাই থেকে ১৮ জুলাইতে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতি ৬৭ শতাংশ।

Spread the love