দেশ প্রথম পাতা লগডাউন

রাম পুকারে বাড়ি ফিরলেও শেষ দেখা হলো না ছেলের সঙ্গে !

করোনা পরিস্থিতিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের একাধিক অসহায়তার ছবি সংবাদমাধ্যমের পাতায় অথবা সোশ্যাল মিডিয়ায় ধরা পড়েছে। এমনই এক পরিযায়ী শ্রমিক রামপুকারে পণ্ডিত। লকডাউনের বিধি নিষেধ অগ্রাহ্য করে, হাঁটা পথে বাড়ির দিকে এগিয়ে গেলেও যাত্রাপথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় পুলিশ। তাই শেষবারের মতো মৃত্যুপথযাত্রী ছেলেকে, তাঁর শেষ দেখা আর হলো না। তাঁর হয়ে এক আলোকচিত্রীর অনুনয়-বিনয়ে পুলিশের সহায়তায় বাড়ি ফিরতে পারলেও, ছেলে তখন ইহলোক এর মায়া ত্যাগ করে অমৃতলোকে পাড়ি দিয়েছে বাবা বাড়ি ফেরার আগেই। ঘটনার সুত্রপাত গত সোমবার দিল্লির নিজামউদ্দিনের কাছে। কান্নায় ভেঙে পড়া রামপুকারের এই ছবিটির নেপথ্যে যিনি, তিনি পিটিআই সংবাদ সংস্থার একজন আলোকচিত্রী, অতুল যাদব। নিজামউদ্দিনের কাছে এই অসহায় মানুষটিকে ফোন আঁকড়ে হাউ হাউ করে কাঁদতে দেখে এড়িয়ে যেতে পারেননি অতুল। কথাপ্রসঙ্গে কানের ফোন সরিয়ে অপরদিকের মানুষটি জড়ানো গলায় উত্তর দেন, “ওঁর ছেলে গুরুতর অসুস্থ। মৃত্যুপথযাত্রী। যে কোনও সময়ে দুঃসংবাদ আসতে পারে। কিন্তু উনি বাড়ি ফিরতে পারছেন না। তাই গত ৩ দিন ধরে নিজামউদ্দিনের কাছে সেতুর উপরই বসে রয়েছেন অসহায়ভাবে। পুলিশ অনুমতি দেয়নি ব্রিজ পেরিয়ে ওপারে যাওয়ার।” বাড়ি কোথায়? জিজ্ঞেস করতেই অতুলকে তিনি উত্তর দিলেন- ‘উধার’ (ওদিকে)। সংবাদসংস্থার আলোকচিত্রীর এই ‘উধার’-এর মানে বুঝতেও কিছুটা বেগ পেতে হল। ‘উধার’ মানে, এই ব্যক্তির বাড়ি বিহারের বেগুসরাই। যেখানে বসে রয়েছেন সেখান থেকে ১২০০ কিলোমিটার দূরে। এরপর অতুলের চেষ্টায় বাড়ি ফিরতে পারলেও, ছেলের মাথায় শেষবারের মতো আর হাত রাখা হল না। এভাবেই কতশত শ্রমিকদের করুন গল্প চাপা পরে গেছে লকডাউনের নজরদারির কারণে।

Spread the love