দেশ প্রথম পাতা

মেয়ের বিয়েতে প্যারোলে মুক্ত রাজীব গান্ধীর হত্যাকারী নলিনী

নিজস্ব প্রতিনিধি : দীর্ঘ ২৮ বছর পর অবশেষে মঞ্জুর হলো আবেদন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী হত্যাকারী নলিনী শ্রীহরণর এই প্রথম টানা এক মাসের প্যারোল মঞ্জ‌ুর করল আদালত। মেয়ের বিয়ের জন্য ছ’মাসের মুক্তির আবেদন জানিয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নলিনী। তাঁর জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ-সহ দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। বৃহস্পতিবার সকালে ভেলোর জেলের বাইরে পা রাখেন নলিনী।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মেয়ের বিয়ের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিল নলিনী। কিন্তু, তার আবেদন খারিজ হয়ে যায়।পরে মার্চে একই আবেদন করেন তিনি। কিন্তু তাতেও রাজি হয়নি প্রশাসন। বাধ্য হয়ে এপ্রিলে মাদ্রাজ হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন নলিনী।মেয়ের বিয়ের প্রস্তুতির জন্য ৬ মাসের মুক্তি চেয়ে বিচারপতিদের কাছে আবেদন করেন তিনি। এর ভিত্তিতে গত ২৫ জুন শুনানি হয় আদালতে। তারপরই ৫ জুলাই নলিনীকে আদালতে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি। কিন্তু আইন অনুযায়ী এক মাসের বেশি প্যারোল তিনি পাবেন না বলে জানিয়ে দেন বিচারক। তবে প্যারোলে মুক্তির জন্য শর্ত বেঁধে দিয়েছে আদালত। এই এক মাসে নলিনী কোনও রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে দেখা করতে পারবে না, সংবাদমাধ্যমে কোনও সাক্ষাতকার দিতে পারবে না এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও পোস্ট দিতে পারবে না। যদিও তাঁর স্বামী মুরুগান এখনও ভেলোর জেলে বন্দি।
উল্লেখ্য, নলিনীই হল দেশের একমাত্র মহিলা কয়েদি যে টানা ২৮ বছর জেলে রয়েছে। এতদিনের কারাবাসে এই প্রথম টানা এতদিনের জন্য জেলের বাইরে পা রাখতে পারল সে। এই তিরিশ দিন তাকে ভেলোরেই থাকতে হবে। তবে তার মেয়ের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে ভেলোর থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে চেন্নাইয়ে। ভেলোরে তার সঙ্গে থাকবে তার মেয়ে হরিথা শ্রীহরন, মা পদ্মাবতী ও বোন কল্যাণী।

১৯৯১ সালের ২১ শে মে। মানব বোমা বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর দেহ। তামিল টাইগারদের নিখুঁত ছকের আক্রমণে কেঁপে উঠেছিল গোটা দেশ। রাজীব গান্ধী হত্যায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরে নলিনী-সহ সাত জনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছিল আদালত। পরে সনিয়া গান্ধীর হস্তক্ষেপে তা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করা হয়।

Spread the love