জেলা প্রথম পাতা রাজ্যের খবর

নিয়োগ দুর্নীতিতে এবার নাম জড়াল রবীন্দ্রনাথ ঘোষের! প্রাক্তন উপাচার্যের ফেসবুক পোষ্টের আগাগোড়াই রইলেন ‘উত্তরের মন্ত্রী’

নিজস্ব প্রতিনিধি: লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে কার্যত মাটির সাথে মিশে গিযেছে তৃণমূল।বিজেপির দাপটে কোনঠাসা শাসক নেতারাই। দলের এহেন ভরাডুবির দায় কেউ এড়িয়ে যেতে পারে না। দীর্ঘদিনের ধরেই উত্তরবঙ্গের মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে নজরে রাখছিল তৃণমূল। কারণ, নানা মহল থেকে একাধিক অভিযোগ আসছিল জেলা সভাপতির নামে। শেষে নির্বাচনের পর জেলা সভাপতির পদ থেকে রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে সরিয়ে দেয় তৃণমূল। কিন্তু তারপরেও বির্তক পিছু ছাড়ছে না রবি বাবুর।এ বার তাঁর বিরুদ্ধে উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ-দুর্নীতির অভিযোগ আনলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রাক্তন উপাচার্য দেবাশিস মজুমদার। যদিও রবীন্দ্রনাথবাবু এই অভিযোগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

প্রাক্তন উপাচার্যের অভিযোগ, কিছু শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেদার টাকা লুটেছেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। আজ ফেসবুক পোস্টে তাঁর আনা এই অভিযোগে সাড়া পড়ে গিয়েছে গোটা কোচবিহার জুড়ে।২০১৫-১৬ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন দেবাশিস মজুমদার। তিনি  বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও নিয়ামকের পুরো সময়ের পদ ফাঁকা। নিজেদের বশংবদ লোক এনে কাজ চালানো হচ্ছে। কিন্তু পুরো সময়ের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়োগ করা হচ্ছে না। এবং তার পুরোটাই মন্ত্রীর অঙ্গুলি হেলনে। গত চার পাঁচ বছরে মন্ত্রীর দোসর যাঁরা, তাঁদের সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে কয়েক গুণ। কর্মী নিয়োগে কাটমানি নিয়ে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের কোনওটাই কাগজে কলমে প্রমাণ করতে পারবো না আমি।

তাঁর অভিযোগ, এ সবের প্রতিবাদ করায় এমন হেনস্থার মুখে পড়তে হয়, যে উপাচার্যর দায়িত্ব ছেড়ে বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসতে বাধ্য হন তিনি। কিন্তু সেখানেও মিথ্যে অভিযোগে সাসপেন্ড হয়ে থাকতে হয়। পরে কোর্টে গিয়ে মামলা জেতার পর চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। “না উত্তরবঙ্গ না দক্ষিণবঙ্গ কোথাও এই সিন্ডিকেট আমাকে বাঁচতে দেয়নি। এখনও আমি প্রাণভয়ে আছি। এই সরকার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত অবস্থার কোনও পরিবর্তন হবে না। তবে এটাও ঠিক, এখন আমার আর হারানোর কিছু নেই। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করছি।” ২০১৬ সাল থেকে তিনি বিজেপির সঙ্গে আছেন বলেও জানালেন দেবাশিসবাবু।

 

Spread the love

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।