জেলা দেশ প্রথম পাতা লগডাউন

হাসপাতালের আলো নেভানোয় সাসপেন্ডে প্রশ্ন, ফের বিতর্কিত রাজ্যপাল।

প্রধানমন্ত্রীর ডাকে হাসপাতালের আলো নিভিয়ে রীতিমতো দীপাবলির সাজে সাজিয়ে তুলেছিলেন হাসপাতাল। তোয়াক্কা করেননি নিয়মনীতির। বেলপাহাড়ি হাসপাতালের সেই আলো নিভিয়ে মোমবাতি জ্বালানোর ঘটনা নিয়ে টুইট করে বিতর্কে জড়ালেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। শনিবার রাতে তিনি টুইট করে বলেন, ‘জাতির আহ্বানে সাড়া দিয়ে বেলপাহাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে ৯ মিনিটের ব্ল্যাকআউট করে ৫ এপ্রিল প্রদীপ জ্বালানোর জন্য মেডিক্যাল অফিসারকে শোকজ দুর্ভাগ্যজনক! করোনার বিরুদ্ধে আমাদের সমবেত লড়াইয়ের ক্ষেত্রেও এটা বিস্ময়ের।’ ওই টুইটার পোস্টে ঝাড়গ্রাম জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের স্বাক্ষরিত একটি শোকজের নির্দেশও যুক্ত করেন রাজ্যপাল।
রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের এই টুইট ঘিরেই উঠেছে প্রশ্ন। কারণ, রাজ্যপালের টুইট কার্যত কেন্দ্রীয় সরকারের বিদ্যুৎমন্ত্রকের নির্দেশকেই ‘অমান্য’ করছে বলে অভিযোগ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ৩ এপ্রিল জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে বলেন, ‘৫ এপ্রিল রবিবার রাত ন’টায় ৯ মিনিটের জন্য ঘরের সমস্ত আলো নিভিয়ে দেশবাসী মোমবাতি, প্রদীপ, মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইট জ্বালাবেন।’ এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশজুড়ে ৯ মিনিটের আলো নেভানো নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ৪ এপ্রিল বিকেলে ভারত সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রকের তরফে এক প্রেস বিবৃতি দিয়ে সুনির্দিষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় কোন কোন ক্ষেত্রগুলিকে ৯ মিনিটের আলো নেভানোর আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সেখানে জরুরি পরিষেবার মধ্যে হাসপাতালকে ‘বাদ’ দেওয়ার কথা ঘোষণা করে নির্দেশিকা জারি হয়।
৫ এপ্রিল রাত ৯টার সময় ৯ মিনিটের জন্য ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালের ভিতর এবং বাইরে সমস্ত বৈদ্যুতিক আলো বন্ধ করে প্রদীপ ও মোমবাতি জ্বালানো হয়। সে সময় হাসপাতালে মোট ৩২ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এমনকী সদ্যোজাত ও প্রসূতিরাও ছিলেন। হাসপাতালে রোগীদের নিরাপত্তার বিষয়টি চিন্তায় ফেলে স্বাস্থ্য দপ্তরকে।
সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে হাসপাতালের আলো বন্ধ করে প্রদীপ জ্বালানোর ছবি ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর ঝাড়গ্রাম জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রকাশ মৃধা গত ৭ তারিখ বিএমওএইচ, দুই মেডিক্যাল অফিসার, একজন নার্স এবং একজন স্টাফকে শোকজ করেন। গত ১০ তারিখ হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার তীর্থপ্রসাদ চক্রবর্তীকেও শোকজ করা হয়। যদিও এ বিষয় নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি ঝাড়গ্রাম জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রকাশ মৃধা।
এরই প্রেক্ষিতে রাজ্যপালের টুইটের পর শুরু হয় বিতর্ক। ঝাড়গ্রাম জেলা কংগ্রেসের সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য বলেন, ‘রাজ্যপালের উচিত রাজভবন ছেড়ে বিজেপির রাজ্যদপ্তরে তাঁর অফিসকে স্থানান্তরিত করা। কারণ তাঁর আচরণ রাজ্যপালের মতো নয়। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রকের নির্দেশকে আমান্য করে তিনি বিজেপির দলীয় কর্মসূচির রূপকারের মত কাজ করলেন।’ রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘চিকিৎসক যদি ভুল করে থাকেন তাহলে তাঁকে হাজার বার শোকজ করার অধিকার রাজ্য সরকারের আছে।’
ঝাড়গ্রামের প্রাক্তন সাংসদ তথা সিপিএমের ঝাড়গ্রাম জেলার সম্পাদক চিকিৎসক পুলিনবিহারী বাস্কে বলেন,‘চিকিৎসকরা যে কাজ করেছেন তা চিকিৎসা বিজ্ঞানের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক যুক্ত নয়। নিয়ম অনুসারে স্বাস্থ্য দপ্তর তাঁদের বিরুদ্ধে

Spread the love