আম্ফান জেলা প্রথম পাতা

জলশূন্য হাওড়ায় বিক্ষোভ বিদ্যুতের দাবিতেও ।

দুর্ভোগ যেন পিছু ছাড়ছে না হাওড়াবাসীর। প্রথমে করোনা প্রকোপ। তারপর আমপান। আমপানের ৪৮ ঘণ্টা পরেও পদ্মপুকুর জলপ্রকল্পের পাম্প শুক্রবার রাত পর্যন্ত ঠিক না হওয়ায় দু’দিন নির্জলা রইল প্রায় গোটা হাওড়া শহর। সেই সঙ্গে বহু জায়গায় বিদ্যুৎ না থাকায় নাজেহাল অবস্থায় বাসিন্দারা। আবার, অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকা থেকে জল এ দিনও নামেনি। বস্তি এলাকার অনেক বাড়িতে এখনও নর্দমার কালো জল জমে রয়েছে। জমা জল সরানো ও বিদ্যুতের দাবিতে এ দিন বিভিন্ন ওয়ার্ডের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা।

পদ্মপুকুর জলপ্রকল্পের পাম্পিং স্টেশনের সব ক’টি পাম্প জলে ডুবে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় হাওড়ায়। পুরসভা সূত্রের খবর, প্রকল্প থেকে জল বার করে পাম্পগুলিকে বিশেষ পদ্ধতিতে শুকিয়ে শুরু হবে ভূগর্ভস্থ জলাধারে জল ভরা। এর পরে পাম্প করে সেই জল পাঠানো হবে ওয়ার্ডগুলিতে। এ দিন সকালেই পদ্মপুকুর জলপ্রকল্পে গিয়ে পৌঁছন পুর কমিশনার ধবল জৈন, রাজ্যের সমবায়মন্ত্রী ও মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্য পুর দফতরের কাছে ৪০ গাড়ি জল চাওয়া হয়েছে।’’ পুর কমিশনার বলেন, ‘‘দ্রুত জল সরবরাহের চেষ্টা হচ্ছে। এ রকম ঘটনা আগে ঘটেনি, তাই নির্দিষ্ট করে জল সরবরাহ শুরুর সময় বলা যাচ্ছে না।’’
এ অবস্থায় মানুষের অসময়ের সাথী ছিল বিভিন্ন এলাকার নলকূপগুলি। নলকূপ থেকে জল নেওয়ার জন্য বিভিন্ন এলাকায় লম্বা লাইন চোখে পড়ে। সুযোগ বুঝে বোতলের পানীয় জলের দামেও শুরু হয়েছে কালোবাজারি। জানা গিয়েছে, বোতল পিছু এক লাফে দাম বেড়েছে ১০-২০ টাকা।
বিদ্যুতের দাবিতে ও রাস্তায় গাছ পড়ে থাকা নিয়ে শরৎ চ্যাটার্জি রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান চ্যাটার্জিহাট থানা এলাকার বাসিন্দারা। রাস্তায় বাঁশ ফেলে, দড়ি দিয়ে ঘিরে রাখেন। অভিযোগ, পুরকর্মীরা গাছ কাটতে আসেননি। বিভি‌ন্ন নিচু এলাকায় জল শুক্রবার রাত পর্যন্ত নামেনি। নর্দমা ছাপিয়ে নোংরা জলে ভরে গিয়েছে গোটা এলাকা। জল ঢুকেছে ঘরেও।
এক পুরকর্তা বলেন, ‘‘আমাদের ৩০টি পাম্প কাজ করছে। কিন্তু জল ফেলব কোথায়? যেখানে ফেলব সেই জায়গাও তো ডুবে আছে। তা ছাড়া সমস্ত নিকাশি প্লাস্টিক আর আবর্জনায় ভরে গিয়েছে। তাই জল বেরোতেও পারছে না।’’

Spread the love