কলকাতা প্রথম পাতা বিনোদন

কাটল জট, সচল হতে চলেছে টলিউড ।

অবশেষে অবসান হল বিতর্কের। কাটল জট। আগামীকাল, বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হতে চলেছে টলিপাড়ায় ধারাবাহিকের শ্যুটিং। বুধবার মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের দফতরে আর্টিস্ট ফোরাম, প্রোডিউসারস গিল্ড, ইম্পা-সহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকেই ১১ জুন, ২০২০ থেকে শ্যুটিং শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বুধবার সকাল থেকেই গুঞ্জন ছিল, আর্টিস্ট ফোরামের কার্যকরী সভাপতির পদ থেকে শঙ্কর চক্রবর্তী পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু পরে তা ভুল বলে জানা যায়। শঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা মাননীয় মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসব, আশা করছি কাল থেকে শ্যুটিং শুরু করা যাবে।’

প্রতি পরতে পরতে থ্রিলার, শুটিং হবে কি হবে না এই নিয়ে শিল্পী ও কলাকুশলীদের মধ্যেই তীব্র চাপান উতোর। বাংলায় যতদিন করোনা থাকবে ততদিন ছোট পর্দায় শুটিং হবে না, হুমকি প্রযোজকদের, বিমার কাগজ না পেলে ক্যামেরার সামনে আসবো না, পাল্টা শিল্পীরা। সব কিছুই মিটল, মিটল টালিগঞ্জের জোড়া বৈঠকে। এই বৈঠকেও হাজির ছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। বৈঠক শেষে মেঘ কেটে রোদ উঠল। দ্বন্দ্ব মিটল আর্টিস্ট ও প্রযোজকদের। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ছোটপর্দার শুটিং।
এর আগে লক ডাউন পরবর্তী সময় কবে হবে শুটিং এই নিয়ে বৈঠক হয়েছিল টালিগঞ্জের ষ্টুডিও পাড়ায়। ছিলেন শিল্পী, কলাকুশলী, প্রযোজক ও চ্যানেল এর কর্তারা। বৈঠক শেষে ঠিক হয়েছিল ১০ তারিখ থেকে হবে শুটিং। শুটিংচলাকালীন সামাজিক দূরত্ব মানা হবে। কিছু পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকে মঙ্গলবার। শিল্পীদের সুরক্ষা সংক্রান্ত বীমা নিয়ে প্রযোজক এবং আর্টিস্ট কেউই সর্বসম্মতিতে পৌঁছতে পারছিল না। এর পর আবার বেঁকে বসে ডেকরেটর সংস্থা। তারা যে সমস্ত জিনিস দেয়, সেগুলো ঠিকঠাক সানিটাইজ করা হবে কিনা সেই নিয়ে আশ্বাস চান তারা। এর ওপর সমস্যা বাড়ে যখন শিল্পীরা বলে, তারা হতে বীমার কাগজ যতক্ষণ না পাচ্ছে, তারা শুটিং করবে না। এতে তিতিবিরক্ত প্রযোজক সংস্থা জানিয়ে দেয় যতক্ষণ করোনা না কমবে, ততদিন শুটিং বন্ধ থাকবে।
বুধবার সকালে অবস্থা এতটাই সঙ্গীন দাড়ায় যে খবর রটে যায় যে আর্টিস্ট ফোরামের কার্যনির্বাহী সভাপতি শংকর চক্রবর্তী ইস্তফা দিয়েছেন। যদিও জল্পনায় জল ঢেলে দেন শংকর নিজেই। বেগতিক দেখে হস্তক্ষেপ করতে হয় অরূপ বিশ্বাসকে। ফের বসে বৈঠক, দফায় দফায় চলে আলোচনা। এই বৈঠকে কতগুলো বিষয় উঠে আসে বারবার। টেলি ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে জড়িয়ে আছেন বহু মানুষ। দিনের পর দিন তারা কাজ পাচ্ছেন না। সংসার চালানো দায় hoye উঠেছে। পার্শ্ব চরিত্রে অভিনেতা অভিনেত্রীদের অবস্থাও তথৈবচ। টেকনিশিয়ানদের অবস্থাও ভাল নয়। কতদিন কাজ বন্ধ করে বসে থাকা সম্ভব। তা ছাড়া প্রযোকরা এত টাকা খরচা করছে, তাদের বিষয়টিও ভেবে দেখা দরকার। ফলে দুজনের স্বার্থের কথা ভেবেই শুটিং চালু করা হোক। এই প্রস্তাবে সহমত হয় শিল্পী ও প্রযোজকরা। ফলে জট কাটে। বৃহস্পতিবার শুটিং শুরু করার সবুজ সংকেত দেয় দু পক্ষই।

মঙ্গলবারের মিটিংয়ের পরেও শুটিং নিয়ে ডামাডোল চলছিলই। বোঝাই যাচ্ছিল, কোনও পরিচালক-প্রযোজক ফোরামকে মানছিলেন। কেউ মানছিলেন না। এর ওপর প্রযোজকদের পাল্টা কড়া বিবৃতিতে আরও অনিশ্চয়তা বাড়ে টলিপাড়ায়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সভা ডেকে ফোরামের কর্তারা বলেছিলেন, ‘শিল্পীদের স্বাস্থ্য ও বিমা সংক্রান্ত বিষয়ে চ্যানেল ও প্রযোজকরা পূর্ণ আশ্বাস দিতে পারেননি। তাই অভিনেতাদের শ্যুটিংয়ে যোগদানের পরামর্শ দিতে পারব না।’ এর কিছুক্ষণ পরে বেশি রাতে প্রযোজকরা পাল্টা বিবৃতিতে বলেন, ‘চ্যানেল, ফেডারেশন, প্রযোজকরা সহযোগিতা করলেও আর্টিস্টস ফোরামের ইচ্ছাকৃত আপত্তিতে কাল থেকে শ্যুট করতে পারছি না। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, যতদিন দেশে করোনা পরিস্থিতি থাকবে, ততদিন আমরা শ্যুট করব না।’ এদিনের বৈঠকে এ সব জট কেটে গেল বলেই মনে করা হচ্ছে।

 

Spread the love