কলকাতা প্রথম পাতা

বেতন নয় মর্যাদার দাবিতে পথে বসেছেন প্রাথমিক শিক্ষকেরা! সারা দেশে এক নিয়ম হলে পশ্চিমবঙ্গ ব্যাতিক্রম কেন, কত বেতন চান তাঁরা?

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রখর রোদ মাথায় নিয়ে বসে আছেন শয়ে শয়ে শিক্ষক। শহরের রাজপথে এই দৃশ্য যেন অসহনীয়। কিন্তু হ্যাঁ, এইভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগররা।  প্রশ্ন উঠেছে, ক্লাসঘর ছেড়ে কেন বারবার এভাবে পথে নামতে হচ্ছে তাদের। কিন্তু উপায় নেই তাই বারবার খোলা রাস্তাতেই বসে পড়তে হচ্ছে। বিধাননগরের উন্নয়ন ভবনের পাশ দিয়ে যে রাস্তাটা চলে গেছে, সেই জায়গার ছবিটা এপ্রিল মাসের প্রেস ক্লাবের সামনের ছবির সঙ্গে অনেকটাই এক। প্রেস ক্লাবের সামনে অনশনে বসেছিলেন রাজ্যের হবু শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তাঁদের দাবি ছিল, এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও চাকরি পাননি তাঁরা। দীর্ঘ দিন ধরে ঝুলে রয়েছে নিয়োগ। তার কয়েক মাস পরেই ফের অনশনে বসলেন প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তাঁদের দাবি, সর্বভারতীয় মাপকাঠিতে ন্যায্য বেতন চান তাঁরা।

আজ এই আন্দোলনের ষষ্ঠ দিন। পাঁচ দিন ধরে অনশনে রয়েছেন তাঁরা। এনসিটিই-র নতুন নির্দেশ মতো রাজ্যে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা মানা হলেও সেই অনুসারে উপযুক্ত বেতন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ প্রাথমিক শিক্ষকদের। পিআরটি স্কেলে বেতন দেওয়ার দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের সংগঠন অনশন আন্দোলন চালাচ্ছে। কিন্তু কেন এই আন্দোলন? ঠিক কত টাকা বেতন চাইছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা? আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, এখন প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতার জন্য নতুন নিয়মে যে শিক্ষাগত যোগ্যতা দরকার হয় সেই অনুযায়ী বেতন অনেকটাই কম দেওয়া হচ্ছে রাজ্যে। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে পিআরটি স্কেল মেনে বেতন দেওয়া হোক। সর্বভারতীয় নিয়ম মেনে নিয়োগ হলে বেতনও সর্বভারতীয় নিয়মেই দিতে হবে বলে দাবি  তাদের।যদিই শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বলেন, “ওদের বহু বার বোঝানো হয়েছে। আমি নিজে একাধিক বার কথা বলেছি। ওদের দাবি অন্যায্য, এ ভাবে গ্রেড পে বাড়ানো যায় না।

কিন্তু ওরা না বুঝলে আমার কিছুই করার নেই। আন্দোলনকারীদের দাবি, যেখানে সারা ভারতের সমস্ত রাজ্যে গ্রেড পে ৪,২০০ টাকা, সেখানে এ রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড পে ২,৬০০ টাকা। এই বৈষম্যের প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন তাঁরা।আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী এক প্রাথমিক শিক্ষক  বক্তব্য, “অনেকেই ভাবছেন আমরা কেবল টাকা বাড়ানোর জন্য আন্দোলন করছি। এটা টাকার লড়াই নয়, সম্মানের লড়াই। আগে প্রাথমিক শিক্ষক হওযার জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা ছিল মাধ্যমিক পাশ। তখন গ্রেড পে ছিল ২,৬০০ টাকার। কিন্তু এখন নিয়ম বদলে হয়েছে, উচ্চমাধ্যমিকে অন্তত ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে এবং ডিপ্লোমা ইন এলিমেন্টারি এডুকেশন (ডিএলএড) প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। এই যোগ্যতায় গ্রেড পে হওয়া উচিত ৪,২০০ টাকা। আমাদের নিয়োগের নিয়ম বদলেছে, কিন্তু গ্রেড পে বাড়েনি। এটা তো এক রকমের অন্যায়। সারা দেশের প্রতিটি রাজ্যে এটাই নিয়ম আছে। তাহলে পশ্চিমবঙ্গ কেন ব্যাতিক্রম।প্রশ্নটা উঠেছে প্রতিবাদের মঞ্চ থেকে।

 

Spread the love