কলকাতা খেলাধুলা প্রথম পাতা

গর্বের ১০০, স্পর্ধার ১০০! লাল-হলুদ সর্মথকরা অসম্মান সহ্য করে না, শতবর্ষের মঞ্চে তথাগতকে খোঁচা মমতার

নিজস্ব প্রতিনিধি: ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। প্রাদেশিকতার গন্ধ মাখা এই নামেই যতো বিতর্ক। আবার এই নামেই মিশে রয়েছে আবেগের আতিশয্য।ইষ্টবেঙ্গল মানেই বাঙালী আবেগ।‘গর্বের একশো’, ‘স্পর্ধার একশো’ এবং আরও অনেক কিছু। সকাল থেকেই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে এমন ছবি-বার্তা ঘুরে বেড়াচ্ছিল। ইস্টবেঙ্গলের শতবর্ষ পূরণ। তাই লাল-হলুদ দিবস নিয়ে উত্তেজনার রেশ তো থাকবেই। বৃহস্পতিবার সকাল সকালই চলে আসে মজিদ বাসকরের ভিডিও বার্তা। ম্যাজিশিয়ান ফুটবলার সেখানে বলছেন, “ইস্টবেঙ্গল শতবর্ষ। ক্লাব ও অসংখ্য সমর্থককে শুভেচ্ছা। শীঘ্রই কলকাতা আসছি।” নেতাজি ইন্ডোরে সেই ভিডিও দেখানো হল মূল অনুষ্ঠানের শুরুতেই। তারপরেই নজরুল মঞ্চে সবুজ বাঁচানো নিয়ে অনুষ্ঠানের পর নেতাজি ইন্ডোরে ঢুঁ মেরে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে যে চলছে ‘গর্বের একশো, স্পর্ধার একশোর’ অনুষ্ঠান। ইস্টবেঙ্গলের শত বর্ষ অনুষ্ঠানের মঞ্চে নাম না করে বিঁধলেন মেঘালয়ের রাজ্যপাল তথাগত রায়কে। মমতা বললেন,’এপার বাংলায় জন্মগ্রহণ করেছি বলে ইস্টবেঙ্গলকে সমর্থন করব না! এটা হতে পারে না’।

মমতা এদিন বলেন,’আমরা হঠাত্ করে সিদ্ধান্ত নিলাম, মনটা কেমন কেমন করছে, একবার যাই। কানে কেউ কেউ বলে দিল, ইস্টবেঙ্গলের লোকরা শুধু ইস্টবেঙ্গল, ওয়েস্ট বেঙ্গল ইস্টবেঙ্গলের মধ্যে ফারাক রয়েছে। এতে লজ্জিত বোধ করছি। এপার বাংলায় জন্মগ্রহণ করেছি বলে, আমি ইস্টবেঙ্গল নই। এটা ইস্টবেঙ্গলের প্রতি অসম্মান। কতগুলো ইতিহাস তৈরি হয় যার ভৌগলিক সীমা থাকে না। আমি আপনাদের স্যালুট জানাতে এসেছি। ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে এসেছি।” একই সঙ্গে একশো বছর পূর্ণ হওয়ার জন্য ইস্টবেঙ্গলকে বিশেষ সম্মান দেওয়া হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।শতবর্ষে ‘ভারত গৌরব’ সম্মান পেলেন বিশ্বকাপজয়ী ভারত অধিনায়ক কপিল দেব। পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়া হল ‘কোচ অব কোচেস’ সম্মান।

শতবর্ষে জীবনকৃতি সম্মান পেলেন দুই প্রাক্তন ফুটবলার মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়। এবছরের বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছেন লালডানমাওয়াইয়া রালতে।তবে মুখ্যমন্ত্রীর গলায় ‘জয় ইস্টবেঙ্গল’ শুনে উচ্ছ্বসিত লাল-হলুদ সমর্থকরা।দিন কয়েক আগে মেঘালয়ের রাজ্যপাল তথাগত রায় টুইট করেন, ‘ইস্টবেঙ্গল অ্যাথলেটিক ক্লাব শতবর্ষ উদযাপন করছে। পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) থেকে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) ক্লাবকে সমর্থন করছেন কেন?’পরে সমালোচনার মুখে তথাগত সাফাই দেন, ‘বোঝার অক্ষমতার জন্য এত গালগাল করছে লোকেরা। আমাদের অনেকেই ইস্টবেঙ্গলের ইতিহাস ভুলে গিয়েছি। আমি ওই ক্লাবকে সমর্থন করছি। ওয়েস্ট বেঙ্গলে বসে ইস্টবেঙ্গলকে সমর্থন আমায় বারবার মনে করায়, ধর্মীয় কারণে আমাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল’।

 

Spread the love