কলকাতা প্রথম পাতা রাজ্যের খবর

ভবনে থাকলেও বৈঠকে থাকলেন না প্রশান্ত কিশোর! পালের হাওয়া ফেরাতে শাসক বিধায়কদের ‘বাংলাতেই’ বেঁধে রাখতে চাইছেন মমতা

নিজস্ব প্রতিনিধি: লোকসভা ভোটে গেরুয়া ধাক্কায় বাংলায় বারোটি আসন কমে গিয়েছে তৃণমূলের। শুধু তা না, তার পর থেকে এক শ্রেণির বিধায়ক, কাউন্সিলর ও জেলার নেতা পা বাড়াতে শুরু করেছেন বিজেপি-র দিকে।এই পরিস্থিতিতে আসরে নেমে পড়েছে খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে লড়াইটা যে খুব একটা সহজ হবে না তৃণমূলের তা ভালোই বুঝতে পেরেছেন তৃণমূল নেত্রী। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলকে তার হারানো জমি ফিরিয়ে দিতে গাঁটছড়া বেঁধেছেন একদা মোদীর ভোট কৌশলি প্রশান্ত কিশোর। অনেকেই মনে করছেন, চোরাস্রোতের মতোই তলায় তলায় তৃণমূলকে মজবুত করতে কাজ শুরু করে দিয়েছে প্রশান্তের কোম্পানি।  বৃহস্পতিবার তপসিয়ায় তৃণমূল ভবনে দলের সমস্ত বিধায়ককে নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রশান্ত কিশোরের দেখানো পথেই আপাতত দলকে পরিচালনা করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মূলত চারটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এ দিনের বৈঠকে। তৃণমূল ভবনে থাকলে এদিনের বৈঠকে হাজির হননি প্রশান্ত কিশোর। বৈঠক শুরুর প্রায় এক ঘন্টা আগে মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল ভবনে গেলে তার সঙ্গে গোপনে বৈঠক সাড়েন, প্রশান্তের সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে একপ্রস্থ বৈঠক সেরে নেন প্রশান্ত।তবে, এদিন বৈঠকের সময় সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও গোটা বৈঠক চলাকালীন তৃণমূলের ভোটগুরু প্রশান্ত কিশোর বসে ছিলেন পাশের ঘরেই।

জানা গিয়েছে, এদিনের বৈঠকে তৃণমূল নেত্রী দলের বিধায়কদের বলেছেন,  ১) প্রত্যেক বিধানসভার বিধায়ক দের চারজন করে নাম ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে দলের কাছে জমা দিতে হবে। বুথস্তরের দুজন এবং সংগঠন দেখেন এমন আর একজন, আর তার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া দেখেন এমন একজনকে কাজে লাগাতে হবে। ২) জনতার সঙ্গে অতি সরল সহজভাবে মিশতে হবে প্রত্যেককে। ৩) বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কোনো রকম সংঘর্ষ তথা কোনরকম উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ঘটনা নিজের বিধানসভা এলাকায় করা চলবে না। এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে হবে। ৪) প্রদত্ত সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে মুখ খোলা যাবে না এবং যত সম্ভব সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে চলতে হবে। ঘটনা ঘটলে আচমকা বা আলটপকা মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ৫) কোন জনপ্রতিনিধি যদি এলাকায় ছাড়েন কিংবা দেশ অথবা রাজ্যের বাইরে যান তাহলে তা সরকার প্রশাসন এবং দলকে অবশ্যই জানাতে তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতা জানান, দিদি বলেছেন, কোনও বিধায়ককেই কলকাতায় বেশি সময় দিতে হবে না। যে যাঁর নিজের এলাকায় যেন থাকেন, বুথ স্তরে সংগঠন শক্তিশালী করার চেষ্টা করেন এবং যেন জনসংযোগ বাড়ানোর আরও চেষ্টা করেন। এর পরেই রাজ্যের বাইরে যাওয়া-না যাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন নেত্রী।তবে এদিনের বৈঠক এড়িয়ে গিয়েছেন বিধাননগরের মেয়র তথা রাজরহাট-নিউটাউনের তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত।

Spread the love