জেলা দেশ প্রথম পাতা রাজ্যের খবর

বিজেপির সর্মথনেই প্রদীপ ভট্টাচার্যকে হারাল তৃণমূলের দোলা সেন, রাজ্যসভার ভোটে আঁতাত খুঁজছে বাম-কংগ্রেস

নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্যসভায় ESI বোর্ডের সদস্য নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীকে ভোট দিল বিজেপি। বিজেপির ভোটে প্রথমবার এই কমিটির সদস্য নির্বাচিত হলেন দোলা সেন। বুধবার রাজ্যসভায় ছিল ESI কমিটির সদস্য নির্বাচন। এতদিন এই পদে ঐক্যমতের ভিত্তিতে সদস্যপদ নিয়োগ দস্তুর ছিল। আসনটি বরাদ্দ বিরোধীদের জন্য।আর রাজ্যসভার ভোটাভুটিতে তৃণমূল প্রার্থীর জয়লাভের চব্বিশ ঘন্টা পর বিজেপি নেতা মুকুল রায় এ ব্যাপারে বিস্ফোরক দাবি করলেন। এ দিন দুপুরে বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্তর বাড়িতে গিয়েছিলেন মুকুলবাবু। সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেন, তৃণমূলের আর কারা বিজেপি-র সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন? জবাবে মুকুলবাবু বলেন, “গতকাল রাজ্যসভায় ভোটাভুটিতে বিজেপি-র সাহায্য নিয়ে জিতেছেন দোলা সেন। বিজেপি-র সমর্থন চেয়েছেন তো খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” তাঁর কথায়, “দোলা সেন তো এমনিই জেতেননি। রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ রয়েছেন ১২ জন। কিন্তু দোলা ভোট পেয়েছেন ৯২টি। কেউ তো তাঁর জন্য বিজেপি-র সমর্থন চেয়েছেন।”বস্তুত রাজ্যসভার ভোটাভুটিতে দোলা যে বিজেপি-র ভোট পেয়েছেন তা নিয়ে সংশয় নেই। ভোটের ফলাফলেই তা স্পষ্ট। অনেকের হিসাবে খুব কম করে বিজেপি-র ২২টি ভোট পেয়েছেন দোলা। যা দেখে কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্যও বলেন, “বিজেপি-তৃণমূলে তলায় তলায় আঁতাত রয়েছে,-আমরা তো বলছি কতদিন ধরে!”এতদিন, ওই আসনে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ রাজ্যসভা সাংসদ দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মেয়াদ ফুরানোর পর সেটিতে নির্বাচন করানোর সংসদীয় কার্য মন্ত্রক।এতদিন তাদের দখলে থাকায় আসনটির দাবিদার ছিল তৃণমূল। কিন্তু সংসদে বোঝাপড়া বাড়াতে আসনটি সিপিএমকে ছেড়ে দিতে চেয়েছিল তারা। কিন্তু তাতেও ওই আসনে জয় নিশ্চিত ছিল না। সেজন্য দরকার ছিল কংগ্রেসের ভোট। কংগ্রেস আবার সিপিএমকে সমর্থন দিতে বেঁকে বসে। ফলে শেষ মুহূর্তে লড়াইয়ের ময়দানে নামে তৃণমূল। তৃণমূল প্রার্থী হন দোলা সেন। কংগ্রেস দাঁড় করায় প্রদীপ ভট্টাচার্যকে। সিপিএম প্রার্থী করে এলম আরম করিমকে। বুধবার ভোটাভুটির শেষে দেখা যায়, ৯০ ভোট পেয়ে জিতেছেন দোলা সেন। তবে মুকুল রায়ের যাবতীয় দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল।তাদের দাবি, মানুষকে বিভ্রান্ত করতেই মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন বিজেপি নেতারা।

 

 

Spread the love