দেশ প্রথম পাতা

মেয়েসন্তান বলে কিডনি দিতে রাজি নন বাবা-মা! এখন মৃত্যুর অপেক্ষায় কাঞ্চনের

নিজস্ব প্রতিনিধি : কিছুদিন আগে দেশের মাটিতে ঘটেছে দুটি বিরল ঘটনা। একটি হল বাংলায় অন্যটি হল বেঙ্গালুরুরে। বাংলার লোকেরা সাক্ষী ছিল, বাবাকে বাঁচাতে নিজের লিভারের ৬৫ শতাংশ দান করেছিল ১৯ বছরের রাখি দত্ত। অন্যটি হল, তরুণী নিজের এনগেজমেন্ট ছেড়ে মাকে বাঁচাতে কিডনি দিতে চলে গিয়েছিল বেঙ্গালুরুর ওল্ড এয়ারপোর্ট রোডে অবস্থিত মণিপাল হাসপাতালে।

দুটি কিডনি বিকল হয়ে গেয়েছে ম্যাধমিক পাশ করা একটি মেয়ের। কিন্তু সেখানে এমনই এক ঘটনা ঘটবে তা হয়ত অনেকেই ভাবতে পারেনি। শুধু মাত্র মেয়ে হওয়ায় মা-বাবা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তার দিক থেকে। ঠিক এমন কাণ্ডই ঘটেছে বিহারে। কন্যাসন্তান বলেই! মা-বাবা কেউই মেয়েটিকে কিডনি দান করতে চান না বলে অভিযোগ উঠেছে বিহারের হাসপাতালের তরফ থেকে। এমনই কি চিকিৎসা এগিয়ে নিয়ে যেতে কোনও আগ্রহ দেখাচ্ছেন তারা।

বিহারে শেখপুরা জেলার অভগিল গ্রামের মেয়ে কাঞ্চন কুমারী। সম্প্রতি গ্রামের সরকারি স্কুল থেকে দশম শ্রেণির পরীক্ষা পাশ করেছে। পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে পাশ করার আনন্দে ভাসছিল সে। তবে সেই আনন্দের মাঝে বেশ কিছুদিন ধরে শরীর খারাপ ছিল কাঞ্চনের। পরে চিকিৎসার জন্য পাটনার ইন্দিরা গান্ধী ইনস্টিটিউট অফ মে়ডিক্যাল সায়েন্সে তাকে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানেই ধরা পড়ে, কাঞ্চনের দুই কিডনির কোনওটিই আর কাজ করছে না।

কাঞ্চনের পারিবারের আর্থিক অবস্থা ভাল নয়। তাই পটনা থেকে শেখপুরের সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করানো হয় তাকে। সেখানেই স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মেয়েকে বাঁচাতে তার বাবা-মা কেউই কিডনি দান করতে রাজি নন।  এখন কাঞ্চনের অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। যত তারাতারি সম্ভব কিছু একটা করতে হবে বলে হাসতাপাল তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সব থেকে অবাক করার বিষয় হল, কাঞ্চনের বাবা-মা মেয়েকে বাঁচানোর জন্য সরকারের কাছে কোনও আবেদন করার আগ্রহও দেখাননি। আজকাল দুঃস্থদের জন্য চিফ মিনিস্টার রিলিফ ফান্ড (CMRF) রয়েছে। কিন্তু সেখানেও আবেদন জানাতে দেখা যায়নি তাদের। এই বিষয়টিই আরও হতবাক করে দিয়েছে হাসপাতালের ডাক্তারদের।

 

Spread the love