করোনা জেলা প্রথম পাতা

লকডাউনে ঘরের বাইরে, সাবধান ধরতে পারে ভূতেরা ।

বিজ্ঞানকে চোখে সর্ষেফুল দেখিয়ে এখনও সারা বিশ্বে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নভেল করোনা। ভালো নাম যার কোভিড – 19। য়ার দাপটে সারা বিশ্ব দেখছে বিগত 100 বছরের মধ্যে না দেখা মৃত্যু মিছিল। যুদ্ধ নেই। নেই বোমা, মিসাইল বা নিদেন পক্ষে গুলি-গোলা। তাও মৃতদেহ সৎকারে খুঁড়তে হচ্ছে গণকবর। নিয়ন আলোয় ভরে থাকত যে শহরগুলো, নিশুত রাতেও ঘুম থাকত না যাদের চোখে। সারা পৃথিবীর সেই মেট্রো শহরদের বুকে আজ খাঁ-খাঁ শূন্যতা। এমনই যার দাপট। আর এমন দাপুটে না-মানুষ শত্রুকে আটকাতে মানুষের ভরসা লকডাউন। করোনা মোকাবিলায় প্রধান হাতিয়ার। কিন্তু অনেকেই যে তা মেনে চলছেন না তা বলাইবাহুল্য! পুলিসের লাঠি থেকে কড়জোড়ে আবেদন কোনও কিছুতেই মিলছে না ফল। অগত্যা ভরসা এখন ‘তেনাদের’ ওপর।
ইন্দোনেশিয়ার কেপু গ্রামে রাত হলেই রাস্তায় নামছে অশরীরীরা। আর সেই ভয়ে গৃহবন্দি থাকছে জাভা আইল্যান্ডের মানুষেরা। তবে আসলে এই অশরীরীদের শরীর আছে। কারণ এঁরা গ্রামের স্বেচ্ছাসেবক, যারা লকডাউন নিশ্চিত করতে সাদা চাদরে নিজেদের ঢেকে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। গ্রামের যুবক দলের প্রধান অঞ্জর বলেছেন, “আমরা কিছু আলাদা এবং যেটা দিয়ে কাজ হবে সেরকম কিছু করতে চেয়েছিলাম। ‘পোকোং’দের দিয়ে কাজ হয়েছে।” ইন্দোনেশিয়ার মানুষেরা সাদা এই ভুতেদের স্থানীয় ভাষায় পোকোং বলে।
মৃত্যুর হারে চিনের পরে এশিয়ায় দ্বিতীয় এই দেশ। করোনা মোকাবিলায় ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো লকডাউন জারি করেছেন। কিন্তু তার পরেও যায়নি গতিবিধিতে লাগাম টানা। তাই পুলিসের সঙ্গে কথা বলে এই অভিনব পদ্ধতি এনেছেন কেপু গ্রামের যুবকরা।
গ্রাম প্রধান প্রিয়দি বলেছেন, “গ্রামবাসীরা এই রোগের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত হয়ে উঠতে পারেননি। তাই তাঁরা সাধারণ জীবন চালাতে চাইছেন।”
ইতিমধ্যে ইন্দোনেশিয়ায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ২৪১ জন। মৃত্যু হয়েছে ৩৭৩ জনের। গবেষকরা বলছেন লকডাউন না মানলে এ দেশে মৃত্যুর সংখ্যাটা হু হু করে বাড়বে।
কেপু গ্রামের সাধারণ গ্রামবাসী কার্ণো সুপাদমো বলেন, “রাস্তায় পোকোংরা বেরিয়েছে, তাই রাস্তায় যেতে ভয় পাচ্ছে মানুষ।”
ঠিক যেন বাইরে এ যে করোনার দোসর পোকোং, এর থেকে ঘরেই ভাল আছি রে ভাই।

Spread the love